৪ মার্চ ২০২১


খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে চলতি মাসের ৩০ তারিখ। দীর্ঘ এক বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও ক্লাস হবে সীমিত আকারে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণি, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান হবে প্রায় প্রতিদিন। আর বাকি শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একদিন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পাঠদান নিয়মিত করা হবে। [তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে বিয়োগ হয়ে গেলো পুরো এক বছর। এই একটি বছর অনেক শিক্ষার্থীরই কেটেছে বই খাতার সান্নিধ্য ছাড়া। আবার কেউ কেউ মাঝে মধ্যে অনলাইন কিংবা ঘরে বসে টুকটাক লেখাপড়া করেছে। তবে সেটা উল্লেখ করার মতো নয়।] এই অবস্থায় দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের অপেক্ষায় দিন গুনছে।
করোনাভাইরাসের কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ তছনছ হয়ে গেছে। সম্প্রতি দেশের কওমি মাদরাসাগুলো খোলা হলেও প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের কোন সূচিই রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বাতিল করা হয়েছে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস নেয়া হলেও তৃণমূল পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থীই পাচ্ছে না সেই সুযোগ। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মফস্বলের প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীই অনলাইনে ক্লাসের সুযোগ পাচ্ছে না বলেই জানা যায়। কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী অচিরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিকভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস হবে এবং বাকিরা সপ্তাহে একদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। করোনা বিস্তার রোধে কিছুটা আশার আলোও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের মনোবল বেড়েছে। সরকারও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষকদের টিকা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে আশা করা যায়, ধীরে ধীরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার প্রেক্ষাপটই তৈরি হচ্ছে।
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয় গত বছর মার্চ মাসের ১৭ তারিখ। পরবর্তীতে দেশের কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেয়া হলেও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, অচিরেই স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে যে জড়তা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

শেয়ার করুন