২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১


নগরীতে বাড়ছে নীশিবালাদের ‘উৎপাত’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : আধ্যাতিক রাজধানী সিলেট। পবিত্র এই নগরী পুরোদেশ এমনকি বিদেশের অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে আলাদা সম্মান আর শ্রদ্ধার জায়গা। প্রায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুযোগ পেলেই এখানে বেড়াতে আসেন ভ্রমণ পিয়াসী পর্যটকরা। শুধু ঘুরতে নয় এখানে হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.)এর মাজার জিয়ারতের উদ্যেশেও ছুঁটে আসেন প্রচুর ধর্মপ্রাণ মানুষ।

কিন্তু সিলেট নগরীতে ভাসমান পতিতাবৃত্তি ও অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে এই পবিত্র নগরীর মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। নগরীতে ঢুকলেই কিনব্রিজ এলাকা ও তার আশপাশে এসব ভাসমান পতিতাদের কারণে সাধারণ মানুষ কিংবা পর্যটকদের পরতে হয় নানা ধরণের বিড়ম্বনায়। তাদের দৃষ্টিকটু চলাফেরা দেখলে মনে হবে যেনো পুরো এলাকাটি পতিতালয়। যেনো সবাই তাদের কাষ্টমার!

জানা যায়, নগরীর সুরমা মার্কেটের আবাসিক হোটেল নিউ সুরমা রেস্ট হাউস, বদরুল রেস্ট হাউস, হোটেল মনোরম। এগুলোতে চলে অসামাজিক সব কাজ। সুরমা মার্কেট থেকেই একটু এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর পাশে রয়েছে রহমানিয়া বোডিং (আবাসিক)। তার সামনে রয়েছে হোটেল গুলশান, সুফিয়া হোটেল, হোটেল বিলাস (আবাসিক) এই হোটেলগুলোতে চলে অসামাজিক কাজ।

এছাড়া, নগরীর সুরমা মার্কেট, কোর্ট মসজিদের সামনের যাত্রী ছাউনি, কিনব্রিজ এলাকা, তালতলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা মেলে এসব ভাসমান পতিতা ও তাদের দালালদের। পতিতাদের দালালরা ফোনকলের মাধ্যমেও কাষ্টমার জোগাড় থাকে। আবার অনেক মেয়েই রাস্তাঘাটে ঘুরাফেরা করে বিভিন্ন ইশারা ইংগিতের মাধ্যমে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে থাকে। সাড়া পেলে তাদেরকে পূর্বনির্ধারিত হোটেলে নিয়ে যায় তারা। এসব পতিতাদের কাছে গিয়ে মোবাইল টাকা সহ মুল্যবান অনেক কিছু খোয়ানোর অভিযোগ আছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, মেসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হোটেল মালিক ও দালালরা। মাঝে মধ্যে আইন শূংখলা বাহিনি অভিযান পরিচালনা করে পতিতাদের আটক করলেও মালিক দালালদের আটক করা সম্ভব হচ্ছেনা।

তারা আরো জানান, প্রশাসনের লোকজনকে টাকা দিয়ে এসব কাজ চলে। সেখানে সরকার দলীয় ও স্থানীয় বেশ কয়েটি গ্রুপের প্রভাবশালী নেতাদের নেতৃত্বে চলে শিলং তীরের বোর্ড।

সরেজমিনে তালতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, যাত্রী ছাউনীর ওই সাইনবোর্ডের পিছনে দেখা মিলে কিছু নারী দালালদের। তাদের দেখে ওই স্থানে গেলেই এগিয়ে আসেন এক ৩৫-৪০ বছরের নারী। পিছন দিকে দাঁড়িয়ে থেকে উদ্দেশ্যে করে বললেন কেমন চান? কোনটায় উঠবেন? যেমনটা চাইবেন পাবেন। এক প্রশ্নে ওই নারী দালাল বলেন, আশপাশের সব হোটেলেই আমাদের লোক রয়েছে কোনো সমস্যা হবে না।

জানাগেছে, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, কাজলশাহ, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল মেসের আড়ালে চলছে দেহব্যবসা। নিয়মিত আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান চালানো হলেও এসব ভাসমান পতিতাদের ব্যাপারে কোন প্রদক্ষেপ লক্ষ করা যায় না।

এসএমপির মুখপাত্র বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা নিয়য়মিত অভিযান চালাচ্ছি, ভাসমান পতিতাদের বিষয়টি লোকাল থানাকে বলে দেয়া হয়েছে। তারা একশনে যাবে।

শেয়ার করুন