১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : এক বছরের জন্য গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর ও নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার বর্তমান কমিটি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ এক বছর। কিন্তু আড়াই বছর পেরিয়ে তিন বছরে পদার্পণ করলেও আসছে না নতুন কোন কমিটি। এ জন্য কোনো উদ্যোগও নেই, নেতৃত্বে রয়েছেন বেশিরভাগই অছাত্ররা। ফলে নানা সমালোচনার মুখেই চলছে ছাত্রলীগের কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হওয়ার কারণে ও সমন্বয়হীনতার দ্বন্দ্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হন উদীয়মান ছাত্রলীগ নেতা হেভেন চৌধুরী। এ ঘটনার পরে ২০১১ সালের ৭ই মার্চ হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক মনোনীত করে গঠিত ৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ। এর পরে, বিগত ৫ বছর কমিটি ছাড়াই পরিচালিত হয় নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগ।
দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি লোকমান আহমদ খান, সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম চৌধুরী সাজুর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগ পৃথক বলয়ে পরিচালিত হলেও শৃঙ্খলায় কোনো ঘাটতি ছিল না। সু-সংগঠিত ছাত্রলীগে ২০১১ সাল থেকেই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যার পরিণতিতে সম্ভাব্য সভাপতি ছাত্রলীগ নেতা হেভেন চৌধুরী খুন হন। এ ঘটনার পর আবু সালেহ জীবন এবং সাইদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠিত হলে সংঘাত মুখর হয়ে উঠে উপজেলা ও পৌর শহর। দফায় দফায় সংঘর্ষ, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থবির হয়ে পড়ে তৎকালীন ছাত্রলীগের কার্যক্রম।
এরপরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের মে মাসে নবীগঞ্জ পৌর ও উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন তাদের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে ওই দুটি কমিটির অনুমোদন দেন।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ এক বছর হলেও ইতোমধ্যে এই কমিটি তিন বছর পার করেছে, কিন্তু আজো ও হয়ে উঠেনি পুর্নাঙ্গ কমিটি, ফলে পদ পদবী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তৃণমূলের ছাত্রনেতারা। এদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বদল হলে ও আদো বদল হয়নি নবীগঞ্জ পৌর ও উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি।
এদিকে নেতৃত্বে আসার মতো গুণাবলী থাকা সত্ত্বেও মেধাবী ছাত্রনেতাদের ভাগ্যে জুটছে না পদ-পদবি। ছাত্রজীবন শেষ হয়ে যাওয়ায় পদ-পদবির আশা ত্যাগ করে তাদের অনেকেই ছাত্রলীগ ছাড়তে শুরু করেছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পৌর ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেরদিন ২০ লাখ টাকা নিয়ে অছাত্র ও বয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছিলেন একাধিক ছাত্রলীগের নেতারা। নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলমগীর চৌধুরী সালমান,মহিনুর রহমান ওহি এবং সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সোহেল মিয়া তালুকদারের নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ নেতারা ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেছিলেন, উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি জেলা থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগের রাতে শাহ ফয়সল তালুকদারকে সভাপতি ও মাহবুবুর রহমান রাজুকে সাধারণ সম্পাদক করে নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ এবং মো. বাবলু আহমেদকে সভাপতি ও সিদ্ধার্থ শংকর ভট্টাচার্য্য শুভকে সাধারণ সম্পাদক করে নবীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করে। তারা জানিয়েছিলেন, শাহ ফয়সলের বয়স ৩১ বছর ২ মাস ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। বাবলু আহমেদের বয়স ২৯ বছর ৬ মাস এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি।এছাড়া, পৌর কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পৌর এলাকার ভোটার নন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তারা। সাবেক সহ-সভাপতি মহিনুর রহমান ওহি অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন ২০ লাখ টাকা নিয়ে নবীগঞ্জে দুটি কমিটি দিয়েছিলেন।
মধ্যম সারির ও স্থানীয় কয়েকজন নেতার অভিযোগ, অদৃশ্য কারণে বিগত আড়াই বছরের অধিক সময়েও নতুন কমিটি হচ্ছে না। গুটিকয়েক সিনিয়র নেতা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে গড়িমসি করছে। যার কারণে নতুন কমিটি হচ্ছে না। স্থবির পৌর ও উপজেলা ছাত্রলীগকে বিভক্তিমুক্ত ও নতুন মেধাবী নেতৃত্বের জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।
হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান জানান, হবিগঞ্জ পৌর নির্বাচনের পর-পর নবীগঞ্জ পৌর ও উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করবেন। আরও বলেন নতুন পুরাতন মিলে ওই কমিটি করা হবে।