৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাফলং বন বিটে চলছে সুদ্ধি অভিযান। অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে বনের জায়গা। জবরদখলকারী চক্রের অবৈধ ড্রাম্পিং ইয়ার্ড,ষ্টোন ক্রাশার মিল,অফিস,ব্যবসায়িক স্থাপনাসহ বন দখল করে রাখা প্রতিষ্ঠান মুক্ত করে সেই বনের জায়গা উদ্ধার করে সৃজিত করা হচ্ছে নতুন নতুন বাগান। সিলেট বন বিভাগের সারী রেঞ্জের জাফলং বন বিট প্রায় ৭হাজার একর বনের ভূমিতে নতুন করে বনায়ন সৃষ্টি করে পূর্বাস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলের পূর্বেকার অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজও করছে বন বিটের নিযুক্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। ইতোপূর্বে জাফলং বন বিটের ৭হাজার একর ভূমিতে জবরদখলকারী চক্র ৩হাজার একর ভূমি দখল করে নিয়েছিল। সাম্প্রতিককালে বন বিভাগের একাধিক অভিযান পরিচালিত হয় তামাবিল,সোনাটিলা, মোহাম্মদপুর,রহমতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। অভিযানে ৫০একরেরও বেশি ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ৬২টি ষ্টোন ক্রাশার মিল, অফিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আরো ৩৪টি স্থাপনা।
বন বিট ফরেষ্টার জহিরুল ইসলাম রাজু ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর মাসে উক্ত বন বিট এলাকার দায়িত্ব নেয়ার পর হইতে শুরু হয় বনের জায়গা উদ্ধার এবং দখলমুক্ত করণের তৎপরতা। গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয় এবং বনের জায়গা উদ্ধারে সফলতা আসে। বর্তমানেও সেই বন বিটের অপরাপর জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ তামাবিল এলাকায় বন বিভাগের ভূমি উদ্ধারে গেলে জবরদখলকারী চক্রের সদস্য সাহরফ আহমদ সোলেমান আহমদ, আতিক কাওছার গংরা বন কর্মীদের উপর হামলা করে তাদেরকে রক্তাক্ত করে।
বিষয়টি নিয়ে গোয়াইনঘাট থানায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। প্রতিনিয়ত জবরদখলকারীদের সাথে বন বিভাগের ভূমি উদ্ধার ও জবরদখল মুক্ত করণের ঘটনায় হামলা এবং হুমকি ধামকি অব্যাহত থাকলেও বনের ভূমি দখলমুক্ত করণ থেকে বন বিভাগ পিচপা হচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনও তাদের সেই তৎপরতা চোখে পড়ে। বন বিট ফরেষ্টার জহিরুল ইসলাম রাজুর তামাবিল কানাইজুরী এলাকায় জবরদখলকারীদের অবৈধ ড্রাম্পিং ইয়ার্ড উচ্ছেদ করতে দেখা যায় বন কর্মীদের। এ ব্যাপারে কথা হলে, সোনাটিলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শহিদ পরিবারের সদস্য ফালানি বেগম জানান,বন বিভাগের উপকারভোগী হিসেবে আমরা সোনাটিলা এলাকায় বসবাস করছি।
কিন্তু অবৈধ জবরদখলকারী চক্রের সদস্যরা আমাদের ভোগ দখলীয় বনের ভূমি দখলে নিয়ে অবৈধ ড্রাম্পিং ইয়ার্ড তৈরির প্রচেষ্টা ও দখলে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমান বন বিট ফরেষ্টার আসার পর উক্ত বন ভূমির জায়গা উদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা ও সফলতা ফুটে উঠেছে। নির্যাতন, নিপীড়ন স্বত্বেও বনের জায়গা উদ্ধার ও নতুন বনায়নে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। কথা হয় বন বিট ফরেষ্টার জহিরুল ইসলাম রাজুর সাথে। তিনি জানান,আমি সরকারি চাকুরীজীবি। দায়িত্ব পালন করতে গেলে কিছু ঝড় ঝাপটা আসবেই, আমি এসব ভয় পাই না। যতদিন থাকবো বনের জায়গা অবৈধ দখলদারমুক্ত করণে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।