৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
বিমান বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ভদ্র ব্যবহার শেখানো হবে। খোদ প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছেন। তা-ও কার্যকর হচ্ছে না। প্রবাসীদের সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার বা শোভন আচরণ করার জন্য বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মী-স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এক বছরের বেশি সময় চলে গেলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানী বন্ধে ও বিদেশ গমনে দালালদের প্রভাব কমাতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। আর এই নির্দেশনার প্রথমেই ছিলো বিমানবন্দরে কর্মরত সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মীএবং স্টাফদের অভিবাসী কর্মী ব্যবস্থাপনা ও তাদের প্রতি শোভন আচরণের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
ব্যাপারটি রীতিমতো হাস্যকর বলেই মনে করছেন অনেকে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাউকে ভদ্রতা শেখানো যায় না। ভদ্রতাজ্ঞান প্রত্যেকে তার পরিবার-সমাজ থেকে অর্জন করবে, এটাই স্বাভাবিক। আরও একটু বাড়িয়ে বললে এটাই বলা যায় যে, [বাঙালি সমাজ ব্যবস্থায় ভদ্রতা বা শোভন আচরণের বিষয়টি রক্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ যাদের পূর্ব পুরুষ সমাজে সভ্য-ভব্য বলে স্বীকৃত তাদের মধ্যে অভদ্রতা-অসভ্যতা থাকে না। আবার এর ব্যতিক্রম যে নেই, সেটা নয়। উত্তরাধিকার ছাড়াও অনেকে সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সভ্য আচরণ করায়ত্ব করতে সক্ষম হয়েছে। এমন উদাহরণও কম নয়। শুধু বিমান বন্দর নয়, প্রায় সব সরকারি দপ্তরেই খুব কম সময়ই সরকারি কর্মচারীরা সুন্দর ও শোভন ব্যবহার করে থাকেন সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে।] কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সাধারণ মানুষদের সঙ্গে অশোভন-অশালীন আচরণ করবে কেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা? চাকরিবিধিতে নিশ্চয় এমন কিছু লেখা নয় যে, সাধারণ মানুষদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে হবে, তাদের সঙ্গে ‘চাকরের’ মতো ব্যবহার করতে হবে? বরং উল্টোটাই হওয়া উচিত। জনগণের ট্যাক্স-এর টাকায় মোটা অংকের বেতন-ভাতা ভোগকারী সরকারি কর্মচারিদের উচিত হবে সেই জনগণকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো। তাছাড়া উন্নত দেশগুলোতে সরকারি কর্মচারীরা জনগণকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এর উল্টো রীতি?
তারপরেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ভদ্রতা শেখানোর’ প্রশিক্ষণ শুরু হবে অচিরেই, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। দেশের বিমানবন্দরগুলোতে চলছে রীতিমতো অরাজকতা। বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানী নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন দায়িত্ব পালন করে বিমানবন্দরে। তাদের অনেকেই নানা অজুহাতে প্রবাসীদের হয়রানী করে থাকে। এতে অনেকেই অতিষ্ট হয়ে দেশে আর না ফেরার কথা বলেন। আর ঘুষের লেনদেন হয় তো প্রকাশ্যেই। যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখেছে, সেই প্রবাসীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ বন্ধ হোক। শুধু বিমানবন্দর নয়, সব সরকারি দপ্তরেই কর্মরতরা যাতে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ছাড়াও প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিতে হবে।