৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজু হত্যা মামলার চার্জ গঠন পিছিয়েছে। শুনানী শেষে আদালতের বিচারক এই মামলায় আর কোন সময় দেয়া হবেনা বলে আগামী মঙ্গলবার সকল আসামীদের উপস্থিত থাকার জন্য আদেশ দেন। ওইদিন আদালতে চার্জগঠনের কথা রয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজু হত্যা মামলার সকল আসামীরা সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার কথা থাকলে হত্যা মামলার আরেক আসামী রুবেল আহমদ অন্য একটি মামলায় কারান্তরিন থাকায় চার্জ গঠন হয়নি। নিহত রাজু মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শাহাপুরের মো. ফজর আলীর ছেলে। তিনি সিলেট ল’কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী বলেন, ছাত্রদল নেতা রাজু হত্যা মামলার চার্জ গঠন বুধবার হওয়ার কথা ছিল। আজ রুবেল নামের এক আসামী আদালতে না আসায় আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠনের জন্য আদালত তারিখ নির্ধারণ করেন।
তিনি বলেন, রাজু হত্যা মামলায় বুধবার দিনার, সলিড ও মোর্শেদকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তবে আসামী রুবেল না আসায় চার্জ গঠন হয়নি। এই চারজন ছাড়া মামলার অন্য আসামীরা জামিনে রয়েছেন। রুবেলকে হত্যা মামলার পাশাপাশি আরেকটি মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তর দেখানো হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৮ মে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজু হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এতে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রকিবসহ ২৬ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন, আব্দুর রকিব চৌধুরী (৩৭), দেলোয়ার হোসেন দিনার (২৯), এনামুল হক (৩১), একরামুল হক (২২), মোস্তাফিজুর রহমান (৩১), শেখ নয়ন মিয়া (৩০), সৈয়দ আমিরুল হক সলিড (৩৭), ফরহাদ আহমদ (২৮), সাদ্দাম হোসেন (৩১), মুহিবুর রহমান খান রাসেল (৩৪), রাসেল আহমদ উরফে রাসেল উরফে কালা রাসেল- উরফে কানা রাসেল (৩৪) আরাফাত এলাহী প্রকাশ বাবু (৩৩), মোফাজ্জল চৌধুরী মুর্শেদ (২৬), আলফু মিয়া (২৪), শহীদুল হক সুফিয়ান (৩০), নজরুল ওরফে জুনিয়র নজরুল (২৫), ফাহিম আহমদ তোহা (২৮), আফজল প্রকাশ আবজল আহমদ চৌধুরী (৩০), সাহেদ আহমদ চৌধুরী (২৫), রুবেল মিয়া (২৪), মামুন আহমদ (২৫), জুমেল আহমদ চৌধুরী (২৯), মুহিত ওরফে মুহিব (৩০), মুর্শেদ আলম প্রকাশ রাসেল আহমদ (৩০), জাবেদ আহমদ প্রকাশ ছেচড়া জাবেদ (৩০) ও জামাল মিয়া প্রকাশ জালাল (২৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল ক্যাডার আব্দুর রকিব চৌধুরীর নির্দেশে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজুর শরীরে ৪০টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে ২৬ জন অংশ নিয়েছে। অভিযোগপত্রে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। অভিযুক্তরা আগে থেকেই রাজুকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। ফয়জুল হক রাজু হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আদালতে ৬ জন জবানবন্দী দিয়েছেন। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ফাহিম আহমেদ তোহা ও সাদ্দাম হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট (১ম আদালত) মামুনুর রহমান ছিদ্দিকী তাদের জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন। দুজনের জাবানবন্দীতে রকিব ও দিনারসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। জবানবন্দীতে রকিবের নির্দেশেই তারা এ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে সাদ্দাম। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সালাউদ্দিন লিটন, মঈনুল করিম ও নজরুল ইসলাম। বিচারক এই চার সাক্ষীর জবানবন্দীও রেকর্ড করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক অনুপ কুমার চৌধুরী বলেন,‘হত্যা মামলা হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ। রকিব ও দিনারসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট রাতে রাজু তার মোটরসাইকেলে করে জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সালাউদ্দিন লিটনকে নিয়ে বাসার যচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় কুমারপাড়ার মেইন রোডে রাইয়ান ফার্মেসির সামনে পৌঁছামাত্র আব্দুর রকিব চৌধুরীর নির্দেশে দেলোয়ার হোসেন দিনার, এনামুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, ফরহাদ হোসেনসহ অন্যরা রাজুর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে দেলোয়ার হোসেন দিনার, মোস্তাফিজুর রহমান ও এনামুল হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিতে জাকির হোসেন উজ্জলের আহত হয়। এসময় মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে গেলে তারা রাজুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা রাজুকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাজুর চাচা দবির আলী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।