২৮ জানুয়ারি ২০২১


আইসিলেশনেল থার্মাল থার্মোমিটার নিয়ে প্রবাসীদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে কোয়ারেন্টিনে থাকা যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দায়িত্বরতরা থার্মাল থার্মোমিটার দিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকা এক প্রবাসী নারীর তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন। কিন্তু এতে যে তাপমাত্রা দেখাচ্ছে তা প্রবাসীদের কাছে থাকা থার্মোমিটারের সঙ্গে মিলছে না। আর এটা নিয়ে চলছে বাকবিতণ্ডা।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত জাকির হোসেনের এমন একটি ভিডিও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়। তাতে দেখা যায়, জনৈক যুবক বলছেন, ‘ফার্মেসি থেকে নতুন মেশিন আনছি। সেখানে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখাচ্ছে। আপনার থার্মাল থার্মোমিটারে তাপমাত্রা দেখাচ্ছে ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাস্থ্যকর্মীর উদ্দেশ্যে)। তার মানে আমরা সব বেমার (রোগী)! আপনারা জোর করে আমাদের বেমার দেখাইরা (দেখাচ্ছেন)।

ওই সময় দাযিত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী প্রবাসীদের বোঝাতে গিয়ে বলেন, ব্যাটারি হয়তো লো হতে পারে। তখন আরেকজন লোক স্বাস্থ্যকর্মীর উদ্দেশ্যে বলছেন, আপনারা থার্মালের ব্যাটারি পরিবর্তন করেন না কেনো? এ নিয়ে কোয়ারেন্টিনে হৈচৈ পড়ে যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য থেকে ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে সিলেটে এসে পৌঁছান ১৫৭ জন প্রবাসী। তাদের সিলেটের বিভিন্ন হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন কমিয়ে ৪ দিনে আনা হয়। এরপর রোববার কোয়ারেন্টিন শেষে এসব প্রবাসীদের নমুনা পরীক্ষায় ২৮ জনের করোনা পজিটিভ আসে। আক্রান্তদের সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়।

এর একদিন পর মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরটি-পিসিআর ল্যাবে ফের নমুনা পরীক্ষায় তাদের ২৫ জনের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। বাকি তিনজনের রিপোর্ট আসে পজিটিভ। একদিনে ব্যবধানে ২৫ প্রবাসীর করোনা রিপোর্ট বদলে যাওয়া খবরে তোলপাড় চলছে। এদিকে, ওই হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রবাসীরা। বিশেষ করে টয়লেটের ভয়াবহ নোংরা পরিবেশের একটি ভিডিও প্রবাসীদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন ধরনের স্ট্রেইন আরো প্রাণঘাতী হতে পারে, এজন্য সতর্কতাস্বরূপ দেশে আসা প্রবাসীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করে সরকার। পরে তা কমিয়ে চার দিনে আনা হয়। এ অবস্থায় এবার যুক্তরাজ্যফেরতদের জন্য সাতদিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়।

এরপরও বৃহস্পতিবার হিথ্রো থেকে বিমানের সরাসরি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আসবেন আরো প্রবাসী।

তবে পুলিশ বলছে, গত ৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৪৪ জন প্রবাসী সিলেটে এসেছেন। কোয়ারেন্টিন শেষে নেগেটিভ সনদ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭২ জন। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সিলেটের বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেন্টিনরত অবস্থায় করছেন ১৪৩ জন প্রবাসী।

শেয়ার করুন