২২ জানুয়ারি ২০২১
শাবি প্রতিনিধি : নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রীরা। সব শেষে বৃহস্পতিবার সকালে শাবিতে ছাত্রীদের মেসের রুমের তালা ভেঙ্গে এক যুবকের ভেতরের প্রবেশের চেষ্টার ঘটনায় পর থেকেই নিরাপত্তার দাবি জড়ালো হচ্ছে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত ছাত্রীদের মেসের রুমের তালা ভেঙ্গে ভেতরের প্রবেশের চেষ্টাকালে বহিরাগত এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনগণ। পরে স্থানীয় জনগণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সহায়তায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে তাকে। ওই যুবকের নাম সাজ্জাদ হোসেন মঞ্জু। বৃহস্পতিবারসকাল ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরে নিরাপত্তার দাবি করেছেন ওই মেসের ছাত্রীসহ শাবির সচেতন শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ইনায়া মেনশন নামের ছাত্রী মেসের চতুর্থ তলার মূল দরজার তালা ভেঙ্গে করিডোরে প্রবেশ করে বহিরাগত এক যুবক। পরে একটা রুমের তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করে সে। এসময় চতুর্থ তলায় মেসে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী তাকে দেখতে পান এবং সে রুমের বাইরে বেড়িয়ে আসে। বহিরাগত যুবকটি ছাত্রীকে দেখে তার ওপর চড়াও হয়ে হুমকি দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে ছাত্রীটি চিৎকার দিলে যুবকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন ওই মেসের ছাত্রীরা চিৎকার দেয় এবং নিচে কিছু মানুষ জড়ো হয়। তারা যুবককে আটক করে গনপিটুনি দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি আসলে তাদের সহায়তায় এবং তাদের উপস্থিতিতে জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে । এসময় ছাত্রীরা তাদের নিরাপত্তার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে।
জালালাবাদ থানার সহকারী উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মালিক পক্ষ থেকে কেউ বাদি হতে রাজী না হওয়ায় আমরা ৮৭ ধারার তাকে কোর্টে চালান করে দিয়েছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনায় গত বছরের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবাসিক হল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু অনলাইনে শাবির শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের সেশনজটের কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা নেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের গত ১৭ তারিখ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু কোন আবাসিক হল খোলা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকায় মেস ভাড়া নিয়ে থাকছেন।
ছাত্রী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আমাদের নিরাপত্তা চাই। নিরাপত্তা বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহনাজ মৌমিতা বলেন, এই ঘটনার পরে আমরা যারা বিভিন্ন মেসে থাকি সবাই এখন আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এই অবস্থায় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আবু হেনা পহিল বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরে দ্রুত সেখানে যাবার চেষ্টা করি এবং ওই যুবককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। অন্যদিকে মেসের নিরাপত্তার জন্য বাসা মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সিলেটের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।