২০ অক্টোবর ২০১৭
তুহিন আহমদ (অতিথি প্রতিবেদক) : সিলেটে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই একটি সবজি ছাড়া প্রায় সব সবজিরই দাম উর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহের তুলনায় শুধু সীম, পেঁপে ও ঢেড়সের দাম কিছুটা কমেছে। কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কিছু সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়তই সবজির দাম বৃদ্ধির কারনে সব শ্রেনীর মানুষের মাঝে চিন্তার ছাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে চিন্তার প্রবনতা একটু বেশীই। দিন শেষে যা আয় করেন তার তিন ভাগের দুই ভাগই চলে যাচ্ছে সবজি কিনতে। বাকী এক ভাগ আয় দিয়ে সব কিছু ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এমনকি মধ্যবিত্তদের মুখেও এখন একই বিষয় সবজির বাজারে আগুন।
নগরীর আম্বরখানার বাসিন্দা ছমির মিয়া। পরিবারের দুই ছেলের স্বল্প বেতনেই চলে সকল খরচ। তিনি বলেন, এখন বাজারে গেলে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজিই কিনা যাচ্ছে না। এমনকি দিন দিন আরও সবজির দাম বাড়ছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে কিন্তু আয় আগের মতই রয়ে গেছে। উল্টো শারিরীক সমস্যার কারনে নিজের কাজ করা বন্ধ হয়ে গেছে। ছেলেদের স্বল্প আয়েই সবকিছু মেনেজ করে চলতে অনেকটা হিসেব কষে বাজার করতে হচ্ছে।
সবজির এই উর্ধ্বমুখীর কারন হিসেবে বিক্রেতারা দায়ী করছেন পাইকারী ব্যবসায়ীদেরকে। তাদের দাবী পাইকারদের কাছ থেকে বেশী দামে সবজি কিনে এনে একটু বাড়তি দাম দিয়ে খুচরা বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারী বাজারে দাম না কমলে খুচরা বাজারে কিভাবে দাম কমিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করবেন তারা এই প্রশ্নও করছেন অনেকে।
এদিকে, এই বাড়তি দামের কারনে কোন সিন্ডিকেটের অসাধু কারসাজি আছে কি না তাও খতিয়ে দেখার জন্য আহবান জানাচ্ছেন ভোক্তভোগীরা।
আম্বরখানা সবজি বাজারের বিক্রেতা আব্দুল মোছালেখ। তিনি দীর্ঘদিন থেকে সেখানে সবজি বিক্রি করে আসছেন। তিনি বলেন, এখন সবজির দাম একটু বেশীই। আমাদেরকে বেশী দামে সবজি কিনে আনতে হচ্ছে। তারপর ওই দাম থেকে কিছুটা বাড়তি দাম ধরে আমরা বিক্রি করছি।
ওই বিক্রেতা দাম একটু বেশী উল্লেখ করে বলেন, লাউ আমরা বিক্রি করছি ৫০ টাকা করে । এই লাউ আমাদের কিনেই আনতে হয়েছে ৪০ টাকা করে। তার মধ্যে আমাদের যাতায়াত খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে বাড়তি আরও ১০ টাকায় আমরা বিক্রি করতেছি। অনেক সময় পরিচিত ক্রেতাদের কাছে ৫ টাকা কমে বিক্রি করছি। লোকসান দিয়ে তো আর বিক্রি করা যায়না।
বৃহস্পতিবার নগরীর কয়েকটি সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, শালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, পটল কেজি প্রতি ৫০ টাকা, সীম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৪০ টাকা দরে, ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, চিচিন্দা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায় যার গত সপ্তাহের দর ছিল ৬০ টাকা, করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা, বেলপই ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, কাচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে, লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।
এদিকে সবজি বিক্রেতারা বলছেন আগামী মাস থেকে শীতকালীন সবজির সাথে সাথে সবজির আমদানীও বাড়বে বাজারে। এতে করে সবজির দাম অনেকটা কমে আসবে।
আরেক সবজি বিক্রেতা আব্দুল আহাদ জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ কম। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। এমনিতি গত সপ্তাহ থেকে দাম কিছুটা বাড়তি আছে কিছু কিছু সবজিতে। কিছু সবজিতে আবার দাম কমেছেও।
বাজারে সবজির বাড়তি দামের জন্য কয়েক দফা বন্যা ও বৃষ্টির কারনকেও দায়ী করছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন বন্যা ও বৃষ্টির কারনে সবজি উৎপাদনে অনেক ক্ষতি পোষাতে হয়েছে। এমনকি উৎপাদন ব্যহতও হচ্ছে।
তবে অক্টোবরের শেষেরে দিকে নতুন সবজি আসা শুরু হলে বাড়তি দামের সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন বাজার কর্মকর্তারা। সিলেট জেলা বাজার কর্মকর্তা শাহ মো. মোরশেদ কাদের জানান, এবারের বন্যা এবং বৃষ্টির কারণে সবজির আবাদে সমস্যা হয়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে অক্টোবরের শেষের দিকে নতুন সবজি এলে সেই সমস্যা থাকবেনা। এত বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়বে। দামও কমবে।
(আজকের সিলেট/২০ অক্টোবর/ডি/কেআর/ঘ.)