১৭ অক্টোবর ২০১৭


ফের প্রকাশ্যে দ্বন্ধে আজাদ-রনজিৎ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজাদুর রহমান আজাদ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এর এ্যডভোকেট রনজিৎ সরকার যদিও জনপ্রতিনিধি হতে পারেননি তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বেশ তীব্র গতিতে। এই দুই আওয়ামীলীগ নেতা একই বলয়ের অনুসারী হলেও মাঝে মধ্যে তাদের মধ্যে দেখো দেয় দ্বন্ধ। আর এই দ্বন্ধের বলি হতে হয় নিরিহ ছাত্রলীগ কর্মীদের। আর নিহতের পরিবারের স্বপ্ন এমনই দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়।

ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আলী মিয়াদ নিহত হওয়ার জেরে আবারো প্রকাশ্যে জড়িয়ে পড়েছেন এই দুই নেতা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর টিলাগড়ে রড়ক অবরোধ করেছে রনজিৎ সরকার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে টিলাগড় পয়েন্টে জড়ো হয় বিক্ষোব্দ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এরপর পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এসময় ২৪ ঘন্টার মধ্যে মিয়াদ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিক্ষোভকারীদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা রনজিৎ সরকারও যোগ দেন। এসময় বিক্ষােভকারীরা আরেক আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে শোনা যায়।

অবরোধকালে বিপুল সংখ্যক পুলিশও টিলাগড় পয়েন্টে অবস্থান নেয়। তাদের উপস্থিতিতেই প্রায় দেড় ঘন্টা বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ। অবরোধের ফলে সিলেট-তামাবিল সড়কে যানজট লেগে যায়।

বিক্ষোভকালে রনজিৎ সরকার ছাড়াও শাহপরান থানা আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গির আলম, ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, সঞ্জয় চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন। তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে মিয়াদের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

শাহপরান থানার ওসি আখাতার হোসেন সড়ক অবরোধের কথা স্বীকার করে বলেন, পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে নগরীর টিলাগড়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ওমর আলী মিয়াদ (২৬) নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। এতে আহত হয়েছেন আরো দুই কর্মী।

নিহত মিয়াদ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের কর্মী। তার উপর হামলাকারীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী গ্রুপের কর্মী।

আর হিরন মাহমুদ নিপু আওয়ামী লীগ নেতা রনজিৎ সরকার অনুসারী ও রায়হান চৌধুরী আরেক আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ অনুসারী বলে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, এককালের বন্ধু আজাদ-রনজিতের মধ্যে বিরোধের ফলেই টিলাগড়ে ঘটছে একের পর এক সংঘাত-হত্যাকান্ড।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টিলাগড়ে সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের অফিসে সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন আহত নাসির ও তারিক নামে আরও দুই ছাত্রলীগ কর্মী।

এরআগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রলীগের কর্মী জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম। এনিয়ে গত ৭ বছরে সিলেটে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন বিরোধে খুন হলেন ৮ জন। এরমধ্যে তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনাই ঘটেছে টিলাগড় এলাকায়।

নিহত ওমর আলী মিয়াদ সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র এবং শহরতলীর বালুচর এলাকার আকুল মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফখরুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ফখরুল সিলেট সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স শাখায় কর্মরত।

 

(আজকের সিলেট/১৭ অক্টোবর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন