২৪ ডিসেম্বর ২০২০
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের বন্ধ থাকা কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলন শুরুর দাবিতে বিভাগজুড়ে ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন সংশ্লিস্ট সংগঠনগুলো। তিনদিনের এই পরিবহন পরিবহন ধর্মঘটে বন্ধ রয়েছে সিলিট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত গণপরিবহন সার্ভিস ‘নগর এক্সপ্রেস’।
পাথর উত্তোলনের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে টানা ৭২ ঘন্টার ধর্মঘটের ডাক দেয় সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ। এতে অংশ নিয়েছে সিলেটের পরিবহন সংশ্লিস্ট অন্যান্য সংগঠনও। ফলে পণ্য ও যাত্রীবাহী সব ধরণের পরিবহনই বন্ধ রয়েছে বিভাগজুড়ে।
কিন্তু ধর্মঘটের কারণে নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ‘নগর এক্সপ্রেস’। যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে নগর এক্সপ্রেস এর বাসগুলো চললেও অনেক প্রশান্তি মিলতো। কিন্তু নগর এক্সপ্রেস এর ৪৫টি বাস বন্ধ রয়েছে।
এ নিয়ে নাগরিক সমাজে নানা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন- তাহলে তাহলে কি মেয়র আরিফও পাথরখেকো ‘ধর্মঘট সিন্ডিকেট’র একজন? না হলে তিনি কেন বাসগুলো রাস্তায় ছাড়ছেন না। সিটি কর্পোরেশন থেকে কি শ্রমিকদের শক্তি বেশী। না সিটি কর্পোরেশন পরিবহণের কাছে জিম্মি।
সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের আন্দোলন নিয়ে সিলেটজড়ুে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাথর উত্তালনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকে আদারথ অবমাননান সামিল হিসেবে মন্তব্য করেছেন সিলেটের ১০ বিশিষ্ট নাগরিক।
গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আদালতের কোনো নিদের্শনা বা রায়ের বিরুদ্ধে এ ধরণের কার্যক্রম আয়োজন, অংশগ্রহণ ও সমর্থন আদালত অবমাননার শামিল।
এদিকে, পরিবহন মালিক শ্রমিকদের এই আন্দোলনের কারণে বন্ধ রয়েছে নগরের একমাত্র গণপরিবহন নগর এক্সপ্রেস’। সিলেট সিটি করপোরেশন পরিচারিত এই গণপরিবহন সেবাটি মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রয়েছে। বাসের পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকে নগরে বন্ধ ছিলো সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। এরমধ্যে নগর এক্সপ্রেসও বন্ধ থাকায় নগরবাসীর দুর্ভোগ সীমাহীন আকার ধারণ করে। এতে নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সিসিকের নগর এক্সপ্রেস বন্ধ থাকলেও ধর্মঘটের মধ্যেও চালু ছিলো বাংলাদেশ সড়ক পরি্বহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিসি) পরিচালিত সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-ভোলাগঞ্জ রুটে বাস সার্ভিস।
শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, পাথর কোয়ারী খুলে দেয়ার দাবিতে পরিবহণ ধর্মঘট- এটা এক ধরণের অরাজকতা। গণবিরোধী কর্মকান্ড। পাথরখেকোরা তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে। ধর্মঘট সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে অতিশীঘ্রই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, নগর এক্সপ্রেস বন্ধ এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাহলে- একবারের জন্যও ধরে নেওয়া যায়, মেয়র আরিফও হয়তো সিন্ডিকেটদের দলে রয়েছে।
ধর্মঘটে নগর এক্সপ্রেস বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে নগর এক্সপ্রেস মালিক সমিতির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মখলেসুর রহমান কামরান বলেন, ধর্মঘটের প্রথমদিন মঙ্গলবার আমরা বাস চালু রেখেছিলাম। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বাস চলাচলে বাধা দেয়। তারা বাস আটকে যাত্রী ও চপালকদের লাঞ্ছিত করে। একারণে মঙ্গলবার দুপুর থেকে আমরা বাস সার্ভিস বন্ধ রেখেছি। চালকরাও ধর্মঘটের সময়ে বাস চালাতে আগ্রহী নন।