২০ ডিসেম্বর ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : কুমারগাঁওয়ে বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় হঠাৎ বন্ধ লাইন চালু হলে বিদ্যুতে ঝলসে এক শ্রমিকের জীবন এখন শংকটাপন্ন । বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নীচে পড়ে গেলে গেইটের রড তার পিটের মধ্যে ঢুকে যায়। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে শাকিল আহমদ নামক এই লাইনম্যানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নীচে পড়ে গিয়ে গুাংতর আহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, কিন্তু কিভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। আহত শাকিল আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি বিদ্যুতের স্থায়ী কর্মচারী নন, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
জানা যায়, পূর্বঘোষিত সংস্কার কাজের জন্য বিদ্যুতের গ্রিড লাইনে শনিবার সকাল ৭টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। বিকেলে সংস্কার কাজ চলাকালীন সময় হঠাৎ কন্ট্রোলরুম থেকে বিদ্যুৎ চালু করা হলে শাকিল আহমদের গায়ে আগুন ধরে যায়, কিছুক্ষন তারের সাথে ঝুলে থাকার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হলে তিনি নীচে পড়ে যান। এসময় লোহার গেইটের খাড়া রড তার পিটের মধ্যে ঢুকে যায় । অবচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে সিলেট ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিডের আওতাভুক্ত কুমারগাঁও উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি বাসে মেরামত কাজ শুরু করে একদল শ্রমিক। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এক শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন । এসময় তার শরীরে বেশ কিছু অংশ ঝলসে যায় এবং তিনি নীচে পড়ে গেলে লোহার গেইটের উপরাংশের ধারালো রড তার পিঠে ঢুকে যায় । তবে কিভাবে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলেন তা রীতিমত রহস্যজনক ।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর সহকারী প্রকৌশলী নূর মো. তারেক বলেন, শনিবার বিকেলে মেরামত কাজের সময় এক শ্রমিক নীচে পড়ে গিয়ে পিঠে রড ঢুকে যায় এবং তার শরীরের কিছু অংশ ঝলসে যায়। তাকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কিভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলেন এই বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উত্তর এড়িয়ে যান ।
প্রসঙ্গত, এর আগে কুমারগাঁও ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র্রে ১৭ নভেম্বর ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে। আগুনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায়সহ অন্যান্য যন্ত্রাশের ব্যাপক ক্ষতি হয় । ওইদিন সকাল ১১টার দিকে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের পৌনে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে পুরো নগরীসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা। অগ্নিকান্ডের ৩১ ঘণ্টার পর নগরীসহ সিলেটের কিছু এলাকা এবং ৫৫ ঘণ্টা পর সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরববরাহ স্বাভাবিক হয় যদিও এই ভয়াবহ ঘটনাটিও খামখেয়ালিরই আরেকটি চিত্র প্রতিটি ঘটনার একটি তদন্ত কমিটি হয় এবং কিছুদিন পর তা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।