১৭ ডিসেম্বর ২০২০


এসআই আকবরের পক্ষে আদালতে দাড়াচ্ছেন আইনজীবী

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে বহুল আলোচিত পুলিশী হেফাজতে রায়হান হত্যাকান্ডের পর এর বিচার দাবী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে সিলেট। সচেতন সিলেটবাসীর সাথে আন্দোলনে একাত্মতাপোষন করেন সিলেটের আইনজীবীরাও। একপর্যায়ে অভিযুক্ত বরখাস্তুকৃত এসআই আকবরের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন আইনজীবীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন করে অভিযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে আদালতে দাঁড়াচ্ছেন এক আইনজীবী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায যায়, গত ১০ ডিসেম্বর রায়হান হত্যাকান্ডের মুল অভিযুক্ত বরখাস্তকৃত এসআই আকবরের পক্ষে আদালতে ওকালতনামা জমা দিয়েছেন সিলেট জেলা বারের ২ং হলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মিসবাউর রহমান (আলম)। এনিয়ে সচেতন মহলে তোলপাড় চলছে। তবে কি আইনজীবী সমিতি তাদের তাদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসেছে, এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।

আকবরের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী মিসবাউর রহমান (আলম) নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আকবরের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে আমি তার পক্ষে ওকালতনামা জমা দিয়েছি। আইনি সহায়তা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ নভেম্বর তারিখে কানাইঘাটের ভারতীয় সীমান্ত থেকে আকবরকে আটক করা হয়। পরে ১০ ডিসেম্বর সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেমের আদালতে তাকে হাজির করে পিবিআই সিলেটের তদন্ত কর্মকর্তা মো. আওলাদ হোসাইন ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তার ৭ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ১৭ ডিসেম্বর ফের তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। কিন্তু এ দুই দিনই আকবরের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না।

এমনকি রায়হান হত্যার পর সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ রায়হানের মা ও তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে আকবরের পক্ষে কেউ আদালতে দাঁড়াবেন না বলে ঘোষণা দেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট এটিএম ফয়জ উদ্দিন সিলেট বলেন, আইনি সহায়তা পাওয়া সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। যদিও আমরা ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলাম আকবরের পক্ষে কেউ আদালতে দাঁড়াব না। কিন্তু কেউ যদি আকবরের পক্ষে দাঁড়াতে চায় তাহলে বাঁধা দিতে পারি না। তবে আমরা কেউ এখনো দাঁড়াইনি। আর আপনি যে আইনজীবীর কথা বলছেন এ ঘটনাটি আমি এখনো জানি না। উনার সাথে আলোচনা করে জানতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান নামের ওই যুবক। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন। মামলাটি পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একে একে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এসএমপির মোট আট পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজন প্রত্যাহার হয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার পুলিশ সদস্যকে। একই সাথে রায়হানের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ দাতা হিসেবে সন্দেহভাজন একজনকেও গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

শেয়ার করুন