১০ ডিসেম্বর ২০২০
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমিটি। শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনের পাশেই পাক হানাদার বাহিনীর গণহত্যার এক শোকাবহ স্মৃতিচিহ্ন অঙ্কিত রয়েছে এই বধ্যভূমিতে। ১৯৭১ সালের ওই স্থানে পাকবাহিনী লালচান চা-বাগানসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১১ জনকে হত্যা করে এখানে গণকবর দেয়। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মুসলমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, বধ্যভূমিটি রেল লাইন সংলগ্ন হওয়ায় লাইন অতিক্রম ব্যতীত সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়ক থেকে বধ্যভূমিতে যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি পাকা সড়ক নির্মাণ হলেও এ সড়ক এখন সিএনজি অটোরিকশার দখলে।
বধ্যভূমি সংরক্ষণে একজন মুক্তিযুদ্ধা তার নিজস্ব অর্থায়নে ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। কিন্তু বধ্যভূমিতে গড়ে উঠেনি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ। শুধুমাত্র একটা সাইনবোর্ড বসানো আছে। সেটার লিখাও অনেকটা মুছে গেছে। ভালো করে না দেখলে কেউ বুজবেই না এটা বধ্যভূমির সাইনবোর্ড। আর কয়েকটা পাকা পিলার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও এখনো অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে বধ্যভূমিটি। রক্ষণাবেক্ষণ কার্যালয়ের সামনে ১১ চা শ্রমিকের নাম সম্বলিত ফলক থাকলেও তাও মুছে যাওয়ার উপক্রম।
হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সহকারী কমান্ডার ও জেলা সাংগঠনিক ইউনিট কমান্ড বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় হতে বধ্যভূমিটি স্বীকৃতি পেয়েছে এবং গেজেটে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। বধ্যভূমির উন্নয়নে ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দ্রুত চিঠি দেয়া হবে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমির উন্নয়ন হবে।