৮ নভেম্বর ২০২০


তবুও ‘হকারমুক্ত’ হচ্ছে না ফুটপাত

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানায় ফুটপাত ও মূল সড়ক হরেক পণ্যের ভাসমান বাজারে পরিণত হয়েছে। ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপর বসে গেছে পণ্যের পসরা। মাছ, সবজি, ফল, কাপড়-জুতাসহ বিভিন্ন প্রকারের পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসে সরগরম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থান। ফলে ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচল দুঃসাধ্য। পথচারীদের ভোগান্তির পাশাপাশি সড়কের যানজট তীব্র হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পশ্চিম অংশ তালতলা পয়েন্ট পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে এক পাশে সবজি, মাছ এবং অপর পাশে কাপড় ও জুতার ভাসমান দোকান বসেছে। বন্দর সিটি কর্পোরেশনের গেইট থেকে পূর্বদিকে হকার পয়েন্ট পর্যন্ত সবজির পসরা নিয়ে বসেছেন অসংখ্য হকার।

একইভাবে সিটি পয়েন্ট ও বন্দর পয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ফল, জুতা, কাপড়সহ ভাসমান দোকানে ছেয়ে গেছে। নগরীর অতি গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানের ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের অংশও দখল করে নিয়েছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও কর্তৃপক্ষের ফুটপাত দখলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছেনা।

ফুটপাতে পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধার্থে অবৈধ দখলদার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অভিযান চালায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। দেখা যায়, সিসিকের উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই আবার ফুটপাত দখল করে বসে যান ভাসমান ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভা কক্ষে আলোচনায় বসেন। ওই সভায় সিসিক মেয়র নগরীর ফুটপাত থেকে হকার এবং অটোরিক্সা (সিএনজি) স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে না পারার অপারগতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। সভায় মেয়র এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। এ সভায় হকার ও অটোরিক্সা স্ট্যান্ড উচ্ছেদ বিষয়ে মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি পরে সিলেটের নবাগত পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের সাথে দেখা করেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নগরীর ফুটপাত থেকে কোনোভাবেই হকারদের সরানো যাচ্ছেনা। ভ্রাম্যমাণ অভিযানের কিছু পর তারা আবার ফুটপাত দখল করে বসে। এ সমস্যার সমাধানে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি সিলেটের নবাগত পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের সাথে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পুলিশ কমিশনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি গুরুত্ব দিয়ে এ সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন এবং সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করবেন।

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মোঃ শোয়েব বলেন, সিলেট নগরীর ফুটপাতে সকল ধরণের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মূল ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম। এমনকি অনেক ব্যবসায়ী এখন ফুটপাতের দোকানদারদের কাছে মালামাল বিক্রি করে টিকে আছেন। তিনি বলেন, হকারদের সরাতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদেরকে সময় দিতে হবে। তাদের বসার জন্য উপযুক্ত স্থান করে দিতে হবে। এরপর আইনীভাবে তাদের উচ্ছেদ করতে হবে।

সিলেট মহানগর হকার্স ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি রকিব আলী বলেন, আমরা রাস্তায় বসতে চাইনা। নিজের ও পরিবারের সামান্য খাবার জুটানোর জন্য রাস্তায় বসি। পুলিশের মারখাই। মানুষের গাল শুনি। আমাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে আমরা আর রাস্তায় বসবো না।

তিনি বলেন, নগরীর লালদীঘির হকার মার্কেট আমাদের আন্দোলনের ফসল। কিন্তু সেখানে আমাদেরকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে না। আমাদের দাবী হলো, সিটি মার্কেটের গেইট ভেঙ্গে রাস্তা সম্প্রসারণ করতে হবে। যাতে ক্রেতারা রিক্সা, অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল নিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া, লালদীঘির মাঠ হকার বসার উপযোগী করে সমতল করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের স্থায়ীভাবে দোকান বরাদ্দ দিলে আমরা সেখানে গিয়ে ব্যবসা করবো।

এ বিষয়ে সিসিক মেয়র বলেন, লালদীঘির মাঠ ভরাট আছে। আর সিটি মার্কেটে শতশত দোকান রয়েছে, তারা ব্যবসা করছে, এটা হকারদের একটা অজুহাত। আসলে হকাররা সেখানে যেতে চায় না। এমনকি পুরাতন জেল রোডে তাদের যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানেও যেতে ইচ্ছুক না।

হকার পুনর্বাসনের চিন্তা মাথায় নিয়ে ২০১৭ সালে নগরীর লালদীঘির পাড়ে অবস্থিত একমাত্র হকার মার্কেটটি ভেঙ্গে আধুনিক বহুতল হকার মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সে লক্ষ্যে পুরনো মার্কেটটি টেন্ডারের মাধ্যমে ভেঙ্গে ফেলা হয়। বর্তমানে এই ভূমিতে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে। তবে হকার নেতাদের দাবি নগরীর লালদীঘির হকার মার্কেটে কোন হকারই স্থান পায়নি। দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে। যে কারণে হকাররা কোন উপায় না পেয়ে রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন।

এসএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, সিলেট নগরী থেকে হকারদের উচ্ছেদ করতে সকলের সাথে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন