১ নভেম্বর ২০২০


তাহিরপুরে মাদ্রাসায় বিভিন্ন পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

শেয়ার করুন

তাহিরপুর (সুনামগঞাজ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর হিফজু উলুম সিনিয়র আলীয়া মাদ্রাসার ৬টি বিভিন্ন পদে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সরকারী নীতিমালা ভঙ্গ করে সভাপতি নিজের স্ত্রী, চাচাত ভাই,আত্মীয়দের নিয়োগের অভিযোগ উঠছে।

সরকারী বিধি না ভঙ্গ করায় এই নিয়োগ বাতিল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারী প্রার্থী ও উপজেলার সচেতন মহল। পদ গুলো হল- অধ্যাক্ষ, উপাদক্ষ্য, হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার, নাইটগার্ড ও আয়া।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও কমিটির সদস্য তালিমুল ইসলাম (দুলাল) নিজের স্ত্রী, চাচাত ভাই ও আত্মীয়দের নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার দিন সকাল থেকে চালায় ব্যাপক তৎপরতা আর তিনটি পদে মোট তিনজন প্রার্থী রাখেন। আর অফিসসহকারীসহ অন্যান পদেও সিলেক্টেড করে এই নিয়োগ জায়েজ করতে নিজ মাদ্রাসায় ও জেলায় নিয়োগ পরীক্ষা না নিয়ে সিলেট বিভাগের আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল (ডিজির প্রতিনিধি) ও তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামী ও তার লোকজন নেয় কুটকৌশল।

তারা নিয়োগে সাক্ষাৎকারের জন্য সকাল দশটায় ডাকার কথা থাকলেও লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ২৭ অক্টোবর সিলেট আলীয়া মাদ্রাসায় ১১টা ২০মিনিটে শুরু হয় ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে দুপুরে।

আর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারী নিয়ম ভঙ্গ করে তাহিরপুর হিফজু উলুম আলীয়া মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলামের আপন চাচাত ভাই ও কমিটির সদস্য তালিমুল ইসলাম (দুলাল) এর উপস্থিতিতে আপন ভাই শরীফ মিয়া, উপাধক্ষ্য পদে মহিবুর রহমান, হিসাব রক্ষক পদে সভাপতি আমিনুল ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে মুতাসির বিল্লাহ, নিরাপত্তা রক্ষী পদে সভাপতির নিজস্ব লোক, আয়া পদে ভাটি তাহিরপুর গ্রামের একজন মহিলা সভাপতির পাশের বাড়ি নিজস্ব লোক উত্তির্ন করায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার, ডিজির প্রতিনিধি তাদের নিজের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে কয়েকদফা মিটিং করে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা নেয় কৌশলে। এই নিয়োগ আরো জায়েজ করতে শুক্রবার, শনিবার বন্ধের মধ্যে রেজুলেশন করে যোগদানের সর্বশেষ পরিকল্পনাও করেছে কয়েক দফা মিটিং করেছে। এই নিয়োগ বাতিল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করি।

তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সভাপতি নিজের স্ত্রী ও চাচাত ভাই জামায়াত বিএনপির লোকজনকে নিয়োগ দিতেই এই নিয়োগ দিয়েছে। যার ফলে পরীক্ষায় জালিয়াতি করার জন্য ভুয়া সনদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে অশিক্ষিতদের নিয়োগ দিয়ে পরিবারতন্ত্রতে পরিনত করেছে মাদ্রাসা তা মানা যায় না। তিনি ও তার পরিবারে যুদ্ধাপরাধী রয়েছে। তিনি নিজেও যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামী। এই নিয়োগ আরো জায়েজ করতে শুক্রবার, শনিবার বন্ধের মধ্যে রেজুলেশন করে যোগদানের সর্বশেষ পরিকল্পনাও করেছে কয়েক দফা মিটিং করেছে।

প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতি যার কাছ থেকে বেশি টাকা পেয়েছেন তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। আগ থেকেই ডিজির প্রতিনিধি ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। এখানে প্রকৃত মেধাবীরা টাকার কাছে হেরে গেছেন। এ জালিয়াতির নিয়োগ বাতিল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করি।

রোবি আক্তার নামে আরেক প্রার্থী জানান, আমি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে আবেদন করেছিলাম। পরীক্ষার আগেই জানতে পারি মাদ্রাসার সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দ মত লোক নির্ধারন করেছেন। তাই সিলেট গিয়ে টাকা নষ্ট না করে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে নি। এই নিয়োগ বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি।

আরেক প্রার্থী জাকারিয়া মাসুদ জনান, আমি ন্যায় সংজ্ঞত ভাবে, সকল বৈধ কাগজ পত্র দিয়ে আবেদন করার পরও ইন্টারভিউ কার্ড পাইনি। আমার মত ইন্টারভিউ এর কার্ড পাইনি আরো অনেকেই। কারন লোক আগেই নিধার্রন করা ছিল। আমি এই নিয়োগ বাতিলে দাবী জানাই।

তবে তাহিরপুর হিফজু উলুম আলীয়া মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা আবদুল হান্নান বলেন, নিয়োগে অনিয়ম হয়নি।

নিজ প্রতিষ্ঠান কেন ইন্টারভিউ হল না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজির প্রতিনিধি সিলেটের বিধায় সিলেটে নেওয়া হয়েছে। ডিজির প্রতিনিধি ত উপজেলা বা জেলা থেকে নেওয়া যায় এই প্রশ্নের জবাবে কোন সু উত্তর দিতে পারেন নি।

আর সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, নিয়োগে কোন অনিয়ম করা হয়নি। নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মাদ্রাসা নিয়োগে কোন অনিয়ম করা হয়নি আর এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাই নি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিজ উপজেলা ও জেলা সদরে নেওয়ার কথা। কেন বিভাগের একটি মাদ্রাসায় নেওয়া হল সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

সুনামগঞ্জ ১-আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

শেয়ার করুন