৬ জুলাই ২০১৭

আজকের সিলেট ডেস্ক:: সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি চারটি পয়েন্টে এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, মঙ্গলবার রাতেও সিলেটে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বুধবার বরাক বেসিনে প্রচুর বৃষ্টিপাতের আভাস দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম। এ অবস্থায় পরিস্থিতি অবনতির আশংকা করা হচ্ছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, উজানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় সুরমা-কুশিয়ারায় পানি কমছে না। বুধবার কানাইঘাটে সুরমা বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার, শেওলায় কুশিয়ারা বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, আমলসীদে কুশিয়ারা বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার, শেরপুরে কুশিয়ারা ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত মঙ্গলবারের চেয়ে এসব নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোফলেজুর রহমান মজুমদার জানান, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন করে কোন এলাকা প্লাবিত না হলেও নদীর পানি না কমায় জেলার বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর, গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার লোকজন এখনো দুর্ভোগে রয়েছেন। এসব এলাকার অনেক স্থানে রাস্তা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার জেলার বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান।
গত ঈদুল ফিতরের সময় থেকে শুরু হওয়া বন্যায় জেলার আটটি উপজেলার আড়াই লাখ পানিবন্দি মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। বন্যায় দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তি উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে বন্যার্তদের মাঝে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া মঙ্গলবার সিলেটের বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
আজকের সিলেট/ সৈয়দ/ঘ.