৪ জুলাই ২০১৭


সিলেটে দুই শতাধিক স্কুল বন্ধ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বানের পানি গ্রাস করছে সিলেট বিভাগের একের পর এক গ্রাম। মানুষজন পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। পাহাড়ি ঢল আর বর্ষণে তৃতীয় দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সিলেটের। ইতিমধ্যে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পানি। অন্যগুলোর উঠোন কিংবা বারান্দায়। এ কারণে গত রবিবার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।

ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগরসহ কয়েকটি উপজেলার ঢুকে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই তলায় খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। গতকাল সিলেট জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও দুর্যোগ কমিটির জরুরি সভায় এসব তথ্য জানিয়েছে সিলেটের মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন- আগামী ৭ই জুলাই থেকে সিলেটের এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বন্যার পানি ঢুকে পড়ার কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে নেয়া হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার জানান, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটিতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সিলেট জেলায় এ পর্যন্ত ৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয়হীন শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। প্রয়োজন হলে আরো আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে। তিনি বলেন- প্রশাসনিক সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে সিলেটে দিন দিন পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনের জন্য কোনো সুখবর নেই। আবহাওয়া অফিস ও পানি উন্নয়নবোর্ড যে তথ্য জানিয়েছে তাতে বোঝা গেছে আরো প্রায় এক সপ্তাহ বৃষ্টি থাকবে। পাশাপাশি উজান থেকে প্রবল ঢল নামতে পারে। ইতিমধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথের অর্ধেকের বেশি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সিলেটের জেলা প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সিলেটে রবিবার পর্যন্ত ১৬১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এই পরিসংখ্যান বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ তারা হিসেবে মাদরাসা কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করেননি।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, কুশিয়ারা নদী বিপদসীমার ১৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বর্তমানে পানি বাড়ছেও না, কমছেও না। সিলেটের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় ১২৮ টন চাল ও দুই লাখ ৭৮ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

 

 

(আজকের সিলেট/৪জুন/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন