২৮ জুন ২০২০
মো: মুহিব হাসান, ওসমানীনগর থেকে : ওসমানীনগরের সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক টু নব নির্মিতব্য উপজেলা হেডকোয়ার্টারের একমাত্র লিংক সড়কটি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ভবন নির্মাণের কাঁচামাল পরিবহনে ভারি যানবাহনের চাপে নাজুক অবস্থার জন্য ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
টিকাদাররা এই কাঁচা সড়কটি দিয়ে ভবনের ইট বালু পাথর পরিবহন করায় ট্রাকের চাকা মাটিতে ধেবে গিয়ে সড়কে সব সময় কাদা লেগেই থাকে। বর্তমানে বর্ষার ঘন বৃষ্টিতে সড়কের এমন বেহাল দশা হয়েছে যেন পায়ে হেটে চলাচল করাই দুস্কর। মহাসড়কের পূর্বে প্রায় শ’খানেক পরিবারের চলাচলের এ সড়কটি মেরামতের জন্য গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত দরখাস্থ করেন।
এলাকাবাসির দাবী উপজেলা প্রশাসনের ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদাররা যেন কর্দমাক্ত সড়কে একটু ইট বালি ফেলে সড়কটি দিয়ে অন্তত পায়ে হেটে চলাচলের সুযোগ করে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের দুলিয়ারবন্দ এলাকায় তাজপুর ডিগ্রী কলেজ এর সামন থেকে নব নির্মিতব্য উপজেলা হেডকোয়ার্টার এর লিংক সড়ক দিয়ে ঠিকাদাররা প্রতিনিয়ত ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন কাঁচামাল পরিবহন করে থাকেন। সড়কটি কাঁচা হওয়ার কারণে ট্রাকের চাকা মাটিতে ধেবে সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। ফলে সড়ক দিয়ে গ্রামের শ’খানেক পরিবারের লোকজন, আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বেসরকারী অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন ডিলারশীপ ব্যবসায়ীদের কর্মচারীরা পায়ে হেটে চলাচল করতে পারছেনা।
সড়কে হরহামেশা কাঁদা লেগে থাকার কারণে কখনো কখনো পথচারীদের সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়। বাসা বাড়ি থেকে ভাল কাপড় পরিধান করে বের হয়ে ট্রাকের চাকার ছিটকে পড়া কাদা ময়লাযুক্ত পানিতে ভিজে আবার বাসায় ফিরতে হয় কাপড় পাল্টানোর জন্য।
গ্রামের কোন লোক অসুস্থ হয়ে পড়লে মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত গ্রামের বাসিন্দা হয়েও রোগী পরিবহনের জন্য বাড়িতে কোন কার লাইটেস নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া সড়কের পাশের নালায় ট্রাকের চাপ পড়ে বন্ধ হয়ে গেলে নালার পানি আর বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে বিভিন্ন ভাইরাস ছড়াচ্ছে।
অন্যদিকে কাশিপাড়া রোডের সাথে সংযুক্ত ছোট রাস্তার উপর বালি পাথর ফেলে রাখার কারণে পানি জমে গিয়ে এই রাস্তাটিও সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় লোকজন টিাকাদারদের ফেলে রাখা পাথরের ডিবির সাথে সুপারির গাছ ফেলে চলাচল করছেন।
দুলিয়ারবন্দ গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল মুমিন জানান, আমাদের এ রাস্তা দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের ভবনের মালামাল নেওয়ার কারণে রাস্তাটি কাদা হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি মেরামতের জন্য আমরা এলাকাবাসি গত বছর ইউএনও বরাবরে লিখিত দাবী জানিয়েছি। বর্তমানে রাস্তায় কিছু বালি ও রাবিশ ফেলে দিলে অন্তত পায়ে হেটে চলাচল করা যেত।
স্থানীয় আব্দুল হাফিজ জানান, উপজেলার ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে টিকাদাররা মালামাল ট্রাকে করে আনছেন। ট্রাকের চাকার চাপে রাস্তাটি আর ব্যবহার করা যাচ্ছেনা। টিকাদারদের বারবার বলেও রাস্তায় একটু বালি দেওয়ানো যাচ্ছেনা।
স্থানীয় বাসিন্দা একটি বেসরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, শুকনো মৌসুমে ধুলার মধ্যে অন্তত হেটে যাওয়া যেত। বর্তমানে কাদার কারণে বাসা বাড়িকে আর হেটেও যাওয়া যাচ্ছেনা। টিকাদাররা তাদের ট্রাক নিয়ে রাস্তা নষ্ট করবেন আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে আমাদের পাড়ার লোকজনকে।
টিএমএসএস এর ওসমানীনগর শাখা ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের অফিসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন লোকজন আসেন। রাস্তায় কাদা থাকায় কাপড় চোপড় ময়লা করিয়ে যেতে হয়। আমরা সীমাহীণ কষ্টে আছি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তাহমিনা আক্তার বলেন, টিকাদাররা তিন চারদিন পর পর রাস্তায় বালি ফেলছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তাটিতে বর্তমানে কাদা হয়েছে। বৃষ্টি কমলে বালি ফেলা হবে। এ রাস্তাটি পাকা হয়ে যাবে। জুন মাসের কারণে একটু লেট হচ্ছে। এ সমস্যা থাকবে না।