৩০ মে ২০২০
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ যেন লাফিয়ে বাড়ছে। ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে সিলেটে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সিলেট যেন ক্রমেই করোনার রেড জোনে পরিণত হচ্ছে। করোনার এই ভয়াল থাবা থেকে বাদ যাচ্ছেন না কেউই। সর্বশেষ শুক্রবার সিলেটে র্যাব সদস্যদের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই দিন মারা গেছেন শামসৃদ্দিন হাসপাতালের এক নার্স।
আক্রান্ত হয়েছেন সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরানের স্ত্রী আসমা কামরান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ও শ্রমিকলীগ সভাপতি শাহরিয়ার কবির সেলিম। এ অবস্থায় ভয় ও আতংক ঢুকেছে রাজনৈকিক পাড়ায়। স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান সহ অনেক নেতা-কমী। পরিস্থিতি এমন ভীতিকর অবস্থায় চলে গেলেও সিলেটে করোনা চিকিৎসার চিত্র বড়ই করুন।
নেই পযাপ্ত চিকিৎসাসেবা। অবহেলিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নামকাওয়াস্তে চলছে করোনা চিকিৎসা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনও। তবে তার এ উদ্বেগ কেবল উদ্বেগেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। সিলেটে বাড়ছেনা করোনা চিকিৎসা আর কোন হাসপাতাল। তবে দলীয় সূত্র বলছে, বুধবার তিনি নতুন হাসপাতাল খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবকে তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেটে আক্রান্ত হয়ে যারা নিজ বাসাতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শামসুদ্দিন হাসপাতালে জায়গা হবে না। এতে বড় বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে সিলেটে। কারণ গত এক সপ্তাহে সিলেটে রোগী বৃদ্ধিও গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন করে রোগী বেড়েছে। প্রতিদিন মাত্র ৩শ রোগী পরীক্ষার পর এই ফলাফল। এখনো পরীক্ষার বাইরে বিপুল মানুষ। যাদের উপসর্গ তৈরি হয়েছে কেবল তাদেরই পরীক্ষা করা হচ্ছে। সিলেটে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৭ জন।
এর মাঝেও একটি আশার বাণী শোনা যাচ্ছে যে, আগামী ৬/৭ দিনের মধ্যে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হসপিটাল আখালিয়া প্রায় ৪০টি বেড নিয়ে করোনা রোগীদের সেবা প্রদানের ব্যবস্থাপনা করতে যাচ্ছে। সেখানে তাদের থাকছে আইসিইিউ ফ্যাসিলিটিজ, প্লাজমা খ্যারাপীসহ সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। এমন তথ্য দিয়েছেন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট এর কনসালটেন্ট প্রফেসর ডাক্তার নজরুল ইসলাম। তিনি তা বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিতও করেছেন। তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা এমন ঘোষণার বাস্তব রুপ দেখতে চাচ্ছেন। কারণ এর আগেও এমন ঘোষণা দিয়ে কিছুই হয়নি।
এদিকে, মাউন্ট এডোরা এমন ঘোষণা দিলেও সিলেটের আরেকটি বেসরকারি হাসাপাতাল নর্থইস্ট ঘোষণা দিয়েও এখনো পর্যন্ত চালু হয়নি। তবে তারা চালুর শর্ত হিসেবে তিন মাসে ২৬ কোটি টাকা দাবি করেছেন। এমন প্রস্তাবনাও নাকি তারা স্বাস্থ্য সচিবের কাছে দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী এক মাস সিলেটের জন্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। যে হারে সিলেটে আক্রান্ত হচ্ছে, সেভাবে বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কষ্টকর হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগতত্ত¡ ও নিন্ত্রয়ণ) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, করোনার জন্য একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল খোঁজা শুরু হয়। এর মধ্যে সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এগিয়ে এসেছে। তারা ইতিমধ্যে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। সেটি যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এর জন্য ব্যয় ধরা হবে। এসেসমেন্ট চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নর্থইস্ট মেডিকেলকে কোভিড রোগীদের জন্য আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, সিলেটে করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। এই হাসপাতালে রোগী প্রায় ভর্তি। এখানে আর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছিলো। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুচ্ছি। শিঘ্রই আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।
এদিকে, সিলেটে করোনার ভয়ংকর চিত্র যে অপেক্ষা করছে তার প্রমাণ বৃহস্পতিবার একদিনে ৬৯ জন সনাক্তের রেকর্ড। সেদিন সিলেটের দুই ল্যাবে মাত্র ১৪৮ টি নমুনা পরীক্ষা করেই ৬৯ জন সনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য সশ্লিষ্টরা বলছেন, এই একদিনের চিত্রই বলে দেয় সিলেটে করোনার মহামারী কোন দিকে যাচ্ছে।