২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার ধর্মপাশায় গোলাম কিবরিয়া নামে এক খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএস’র চাল লোপাটের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, কিবরিয়া ৩ জন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল তাদেরকে না জানিয়ে নিজেই উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।
উপজেলা খাদ্য দফতর থেকে জানা যায়, সরকারিভাবে ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই লক্ষ্যে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১১ জন ওএমএস’র ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। আর প্রত্যেক ডিলার প্রতিদিন ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে ৫ কেজি করে ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে চাল বিক্রি করে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার মধ্যনগর সদর ইউপি’র ডিলার শাখাওয়াত হোসেন, দক্ষিণ বংশিকুণ্ডা ইউপির ডিলার রাজু আহম্মেদ ও বংশিকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের ওএমএস’র ডিলার আব্দুর রাজ্জাকের নামে ৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই চাল তাদেরকে না জানিয়েই চলতি মাসের ১৩ তারিখে গোলাম কিবরিয়া উত্তোলন করেন।
গতকাল সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে ধর্মপাশা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে জানা যায়, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা চলতি মাসের ১৩ তারিখে ওই ৩ জনের নামে ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর চালান মূলে বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলনের জন্য ৮১ হাজার টাকা জমা দেন।
এদিকে ওই তিন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চলতি মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখ খোলা বাজারে চাল কিনতে না পারায় তাদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলার বংশিকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘চলতি মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের জন্য আমার নামে বরাদ্দকৃত ২ মেট্রিক টন চালের টাকা ১৩ তারিখে ব্যাংকে জমা না দেয়ার জন্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই আবার ১৩ তারিখে আমার নামে বরাদ্দকৃত চালের টাকা আমার অগোচরে ব্যাংকে জমা দিয়ে উক্ত চাল উত্তোলন করে নিয়েছেন। আর এ জন্য ২ দিন খোলাবাজারে চাল বিক্রি করতে না পারায় এলাকার ভুক্তভোগীদের চাপ সামলাতে হচ্ছে আমাকে।’
একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলার মধ্যনগর ইউপির ডিলার শাখাওয়াত হোসেন ও বংশিকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের ডিলার আব্দুর রাজ্জাক।
উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তার বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ৩ জন ডিলারের নামে ১৪ ও ১৫ তারিখে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চালের টাকা ধর্মপাশা সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়েছি এবং উক্ত চাল আমার গুদামেই রয়েছে। তবে পরিবহনের সমস্যার কারণে ডিলাররা ওই চাল নিতে পারেননি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা খন্দকার জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
(আজকের সিলেট/২০ সেপ্টেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)