ভালবাসা আর হাজারো স্বৃতিতে ঘেরা সি এন্ড বি কলোনি। যেখানে কেটেছে আমার জীবনের ১৯টি বছর। শৈশবের দিনগুলি কখনই ফিরে আসবে না জানি, তবে ফিরে পওয়া গেলে হয়তো ভালই হত। কলের দুয়ারের সামনে ছোট্ট খেলার মাঠ, যেখানে সময় উপযোগী সব ধরনের খেলা খেলতাম আমরা। ডাংগুলী, মারবেল, ক্রিকেট, সাত চারা, কানামাছি, কাবাডি সহ এমন অনেক খেলাই খেলতাম বছরের বিভিন্ন সময়ে। রাতের বেলা কারেন্ট চলে গেলে সবাই বাসা থেকে বের হইয়ে গল্প করেই সময়টা কাটিয়ে দিতাম। কারেন্ট এলে সবাই দৌড়ে চলে যেতাম যার যার বাসায়।
শীতকালে আবার ভিন্নতা আনতে পাড়ার বড় ছোট সবাই মিলে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি করতাম। সকলে টাকা তুলে খেলার নেট, লাইট বোর্ড লাগাতাম যাতে রাতের বেলায়ও খেলা যায়। রোজার সময়টাতে তারাবি নামাজ এর পরেই শুরু হইয়ে যেত আমাদের ব্যাডমিন্টন খেলা। পালা করে চারজন থেকে দুজন দুজন করে টিম ভাগ করে খেলা চলত সেহেরির আগ অবদি।
মাঠের পাশেই হেলাল চাচার বাসা, চাচার বরই গাছে ডিল ছুঁড়ে কত বরই খেয়েছি, আবার সাথে চাচার দৌড়ানিও খেয়েছি বহুবার। চাচার বাসার টিনের চালের উপর থেকে টেনিস বল আনতে গিয়ে কতবার যে চাচার বকা শুনেছি। চাচা আজ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু শত অভিমানের মধ্যেও চাচার চোখে যে ভালোবাসা দেখেছি আমাদের প্রতি তা সারাটা জীবন মনের এক কোনে থেকে যাবে। ফেলে আসা সেই দিন গুলির কথা মনে পড়লে সুখ- দুঃখ দুটোই অনুভব হয়।
কলোনিতে সব পরিবারি বেশ পুরনো। মানে, দীর্ঘ দিন যাবত এখানেই বসবাস করছেন পরিবার গুলো। আমার জন্মের পর থেকে উনাদের হাতেই আমার বেড়ে উঠা। তাই প্রতিটি পরিবারের কাছেই আমি ঋণী। দুর্গা পুজা, কালি পুজা, ঈদ কখনই আমার কাছে আলাদা মনে হয়নি। বরং সারা বছর আমিও অপেক্ষায় থাকতাম কবে ঈদ আসবে। ঈদের দিন সকাল থেকেই বেরিয়ে যেতাম বন্ধুদের বাসায়। সুজন, ইউসুফ, বেলাল, মুন্না, কাউছার, শামসুল থেকে শুরু করে একের পর এক সবার বাসায় বন্ধুরা দল বেঁধে যেতাম আর মজার মজার লাচ্ছা সেমাই, জরদ্দা ভাত, লাল সেমাই খাওয়া হতো। সালামি ও পেয়েছি বহুবার।
কাজের সুবাধে পাড়ি দিয়েছি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, কিন্তু কলোনির প্রতিটি মানুষের আন্তরিক সেই আদর ভালবাসা আর কোথাও খুজে পাইনি। বৃষ্টির দিনে বন্ধুরা হাঁটু জল পানিতে কত হৈ চৈ করেছি যা আর কখনই করা হবে না। সি এন্ড বি কলোনি আমার শিকর, আমার ভালোবাসা। যারা কলোনিতে বড় হয়েছে শুধু তারাই রিলেট করতে পারবে আমার লেখা গুলো। সেই দিন গুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় আবারো। জানি, হইত বা তা আর কখনই হবেন না। যে সময় চলে যায় তা যে আর ফিরে আসে না।
লেখকঃ সানি মজুমদার, আবুধাবী প্রবাসী
সাংগঠনিক সম্পাদক – বাংলাদেশ শিল্পী সমিতি, সংযুক্ত আরব আমিরাত