৭ এপ্রিল ২০২০


প্রধানমন্ত্রীকে দুবাই প্রবাসীর খোলা চিঠি

শেয়ার করুন

প্রথমেই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়কে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন বলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, আমরা যারা প্রবাসে আছি, আমরা কি সরকারের হিসেবের খাতার বাহিরে?
 
আমরা রেমিটেন্স যোদ্ধা, সারা বিশ্বের মতো আমরাও শংখিত জীবন অতিবাহিত করছি। করোনা ভাইরাস বর্হিবিশ্বে ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। আতংক উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে আমরা আমাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ছাড়া প্রবাসে একা আছি।
 
প্রবাসীরা শুধু দেয়, কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পায় না। এই তো কয়দিন আগেই ঢাকা এয়ারপোর্টে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলে সম্বোধন করেছিলো। দুঃখের বিষয় হল দেশের উন্নয়নের অংশীদার হয়েও এমন কথা প্রতিনিয়ত শুনতে হয়েছে আমাদের।
 
তাই প্রবাসীদের পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের জোর দাবি জানাচ্ছি যে, প্রবাসীদের মধ্যে যারা ছোটখাট ব্যবসা বা চাকুরী করেন ঐ সকল প্রবাসীদের জন্য এই ক্রান্তিলগ্নে লোনের ব্যবসা কার্যকর করা হোক।
 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্টীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংক আছে, যদি আপনি কিংবা আপনার সরকারের স্বদয় হয় তবে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমেে লোনের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। যদি তা না করা হয় তবে এই মহামারীর পর বিশ্ব যখন স্বৃতিশীল হবে তখন ছোটখাট ব্যবসায়ী বা চাকুরীজীবি ৭০-৮০ % প্রবাসীরা রাস্তায় থালা নিয়ে নামতে হবে।
 
প্রবাসীদের রেমিটেন্সে দেশের অর্থনীতি চাকা সচল থাকে কিন্তু বর্তমানে আমরা প্রবাসীরা গৃহবন্ধী অবস্থায় আছি। জানি না আমাদের কি হবে আমরা যদি এ অবস্থায় মরে যাই কিন্তু আমাদের পরিবার পরিজন আমাদের লাশটাও দেখতে পারবে না। আমাদেরকে দেখার কেউ নেই শুধু আল্লাহ্ এবং দেশের সরকার ছাড়া।
 
অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, প্রবাসীদের এই আর্তনাদ মঞ্জুর করে আপনার সু-দূষ্টি কামনা করছি।
লেখকঃ নজরুল ইসলাম রুহেল,
সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী

শেয়ার করুন