৫ মার্চ ২০২০
অতিথি প্রতিবেদক : স্বস্তিতে নেই সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ঘরে-বাইরে প্রচন্ড চাপে আছেন তিনি। চরম অস্বস্তিতেই কাটছে তাঁর প্রতিটি মূহুর্ত। নগরীতে বিরাজমান দুর্ভোগ, বিড়ম্বনা উন্নয়নের বার্তায় সাধারণ মানুষকে ভোলালেও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না নিজ দল বিএনপি এবং সিসিকের কাউন্সিলরদের সঙ্গে। দিন দিন বিএনপির বড় একটা অংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছে। দূরত্ব বাড়ছে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও। ইদানিং সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের সঙ্গেও।
এহেন পরিস্থিতিতে নগরভবনেও তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর উঠেছে। অভিযোগ দেয়া হয়েছে মেয়রের বিরুদ্ধে। কাউন্সিলরদের বিষয়টি নানাভাবে,২/৩জন কাউন্সিলরদের মধ্যস্ততায় সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন দাপুটে এ মেয়র। সব মিলিয়ে এখন কঠিন একটা সময় পার করছেন আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট নগরীতে হাজারো কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। নগরজুড়ে ‘উন্নয়নজ্ঞে’ দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা এখন নিত্য সঙ্গী। এসব বিড়ম্বনা ফাঁদ ডিঙ্গিয়ে চলছে নগরজীবন। সাধারণ মানুষ এতে হাপিয়ে উঠলেও মেয়র আরিফকে দোষারূপ করছেন না, সব কিছু সহ্য করে দৃষ্টিনন্দন নগরীর আশায় বুক বেধেছেন। অনেকেই বাহাবাও দিচ্ছেন তাকে। ইতোমধ্যে কিছু উন্নয়ন দৃশ্যমানও হয়েছে। যা দেশ-বিদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু কাউন্সিলরদের পাশ কাটিয়ে সবকিছু নিজে একা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেয়র আরিফ। তাঁর এহেন কর্ম ভালোভাবে নেননি ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।
কাউন্সিলরদের অভিযোগ, তারাও নগরীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। নিজ নিজ ওয়ার্ডে উন্নয়ন কর্মের অংশীদার হওয়ার কথা তাদেরই।।কিন্তু মেয়র তাদের সেই ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প মেয়র নিজেই তদারকি করছেন। এমনকি পরির্দশনকালেও তাদের ডাকছেন না তিনি। এছাড়া সিসিক পরিষদকে না জানিয়েও অনেক প্রকল্পে অর্থ ছাড় দিচ্ছেন, জমি কিনছেন;ইচ্ছেমতো জনবল বাড়াচ্ছেন। নগরভবনে ইচ্ছেমতো ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। যেন তার কাছে পরিষদ নিস্প্রয়োজন।
এসব কারণে কাউন্সিলররা সংক্ষুব্ধ। এনিয়ে কাউন্সিলররা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন ২৪জন কাউন্সিলর। একটি অভিযোগনামাও তৈরী হয়েছে। এতে ইতোমধ্যেই সাক্ষর করেছেন ২২জন কাউন্সিলর। মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে আনীত এ অভিযোগপত্রটি বুধবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হয়েছে।
তার মাধ্যমেই এ অভিযোগপত্রটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কথা। যদিও রাতে পৃথক দু’টি বিবৃতি পাওয়া গেছে কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে। একটিতে স্বাক্ষর করেছেন ১০। মেয়রের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রেও স্বাক্ষর রয়েছে তাদের।
অপরটিতে রয়েছে মোট ২৪জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষর। এতে মেয়রের প্রতি তাদের আস্থা থাকার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে একাধিক কাউন্সিলরকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মেয়র।
অপরদিকে, মেয়রের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরদানকারী ২২জন কাউন্সিলরও বুধবার রাতে গোপন বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো পরিস্থিতিতে পড়ে কি কারণে পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে মেয়রের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন-এ ব্যাপারে প্রত্যেকেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
অপরদিকে, সিসিক নির্বাচনের আগ থেকেই বিএনপির একটি পক্ষের সঙ্গে দূরত্ব ছিল দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর। যদিও নির্বাচনে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে নানা কারণে বিশেষ করে ছাত্রদল ও যুবদলের জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে তার সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ দিন দিন বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে বিরোধী বলয়ও। সাম্প্রতিকালে জেলা বিএনপির আওতাধীন ১৮টি উপজেলা ও পৌরসভার সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড় চলছে।এ ইস্যুতে পরস্পরের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির দু’টি পক্ষই।
বিএনপির একাধিক সূত্রমতে, বিবদমান দু’টি বলয়ের একটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।