২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০


ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন প্রকল্প, বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইন্টারনেট!

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীতে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের কারণে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা নিয়ে সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি।

এতে নগরীর প্রায় ৬০ হাজার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এবং বিদ্যুৎ বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূগর্ভস্থ লাইন হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ করতেই হবে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হলে তাদের কিছুই করার নেই।

জানা গেছে, নগরীতে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সংযোগের তার টানানোর জন্য বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহার করে থাকে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের তার মাটির নিচ দিয়ে চলে যাওয়াতে নগরীর প্রায় ৬০ হাজার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের তারের মত মাটির নিচ দিয়ে ইন্টারনেট কেবল নিয়ে যাওয়ার ব্যয় বহনের ক্ষমতাও নেই বেশিরভাগ ব্রডব্যান্ড প্রতিষ্ঠানের।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক অবস্থায় সিলেট নগরীর ৭ কিলোমিটার বিদ্যুৎলাইন ভূগর্ভস্থ করার কাজ চলছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ৫৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে নগরের হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ এলাকায় এমন লাইনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সঞ্চালন সফল হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুতের তার ভূগর্ভে স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়েছে আরও কয়েকটি এলাকায়।

এর মধ্যে রয়েছে আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই থেকে চৌহাট্টা মোড় এবং বন্দরবাজার এলাকার সিটি পয়েন্ট হয়ে সিলেট সার্কিট হাউস, চৌহাট্টা মোড় থেকে রিকাবিবাজার হয়ে নবাব রোড এলাকার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বাগবাড়ি কার্যালয়, পূর্ব জিন্দাবাজার থেকে জেলরোড মোড় পর্যন্ত। চলতি মাসের শেষের দিকে এসব এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের কাজ শুরু করবে কর্তৃপক্ষ।

ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সরবরাহ করার কাজে যুক্ত আছে ছোট বড় ৩৫ থেকে ৪০টি প্রতিষ্ঠান। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই কার্যালয় নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায়। এই এলাকায়ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্থাপনের আওতাভুক্ত। তাই এখানকার বিদ্যুতের খুঁটিগুলোও অপসারণ করা হবে। আর খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়বে।

ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লিংক থ্রির সিলেট শাখার প্রধান মাসুদ রানা বলেন, মাটির নিচ দিয়ে লাইন নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বর্তমানে আমরা গ্রাহকদের মাত্র এক হাজার টাকায় ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারছি। মাটির নিচ দিয়ে তার টানাতে হলে সেই খরচ ৫-৬ হাজার টাকায় উঠে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের অবগতির জন্য একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নেওয়ার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। কিছুদিনের মধ্যে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের আওতায় আসা এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং তাতে থাকা সব তার অপসারণ করা হবে। খুঁটিতে থাকা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তারগুলোও অপসারণ করা হবে।

এ বিষয়ে তারবিহীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক কে এম নাজিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিজেদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের কাজ শেষে হলে সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। ইন্টারনেট কেবল অথবা স্থানীয় কেবল অপারেটর সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজ দায়িত্বে গ্রাহকদের লাইন সঞ্চালন করবে।

শেয়ার করুন