১৩ জানুয়ারি ২০২০


বিদেশী শিল্পীর রং-তুলিতে জৈন্তাপুরের লাল শাপলা

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের জৈন্তাপুরের লাল শাপলার রাজ্যের ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ২০১৫ সালে কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী উপজেলার ডিবিরহাওর এলাকার ৪টি বিল বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে পর্যটন স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ফটোগ্রাফি সোসাইটির এক্সিবিশনের মাধ্যমে সিলেটের জৈন্তাপুরে লাল শাপলার বিলটির চিত্র তুলে ধরা হয়। ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক চিত্রশিল্পী মো. খায়রুল ইসলামের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ বিভিন্ন এক্সিবিশনে শাপলা বিলের ছবি প্রর্দশন করা হয়। এর ফলে জৈন্তিয়ার লাল শাপলার রাজ্য পর্যটন স্থান হিসেবে বাংলাদেশের মানচিত্র দখল করে নেয়।

সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা এখানে এসে লাল শাপলার সঙ্গে মিশে যেতে চান। বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে আসা পর্যটকরা এক নজর দেখার জন্য লাল শাপলার বিলে ছুটে আসেন।

বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে জার্মান চিত্রশিল্পী ক্লাউডিয়া, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের লেকচারার জুনায়েদ মোস্তফা, রাশেদ কামাল রাশেদ নিজ নিজ রং-তুলির আঁচড়ে জৈন্তাপুরের লাল শাপলার রাজ্যের বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলেন।

জার্মানির চিত্রশিল্পী ক্লাউডিয়া জানান, বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান এটি। লাল শাপলা, অতিথি পাখি, সূর্য উদয়-অস্ত বিষয়গুলো অকল্পনীয় লেগেছে। অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সিলেটের লাল শাপলার পর্যটন স্থানটি অন্যতম। স্থানটি দেখে গত শুক্রবার বিভিন্ন ধরনের ১০টি চিত্রকর্ম তৈরি করেছি, যেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সিবিশনে তুলে ধরব। বিলে যাতায়াতের রাস্তাটির সংস্কার এবং বিল এরিয়ায় অবৈধ স্থাপনা সরালে এটি আরও আকর্ষণীয় হতো বলে জানান তিনি।

জুনায়েদ মোস্তফা জানান, জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে লাল শাপলার বিলের সংক্ষিপ্ত যে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে তা ভুল। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী এবং পুরাকীর্তি স্থানটিসহ স্থানীয় ইতিহাসকে বিভিন্ন দেশ হতে আগত পর্যটকরা ভুল জানছেন। অবিলম্বে লাল শাপলার রাজ্যের ভুল ইতিহাস অপসারণ করে প্রকৃত ইতিহাস প্রকাশ করা উচিত।

চিত্রশিল্পী রাশেদ কামাল রাশেদ বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই, এই বিলগুলোর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে দোকান, লাল শাপলা ধ্বংস করে বিলের জমি দখল করে ফসলি জমি তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বিলগুলোকে রক্ষা করতে প্রশাসনের এখনই প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় লাল শাপলার বিল অচিরেই তার সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, অচিরেই আমার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে লাল শাপলার বিলে চিত্রকর্মের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে আসব।

জৈন্তাপুর পুরাকীর্তি ও পর্যটন উন্নয়ন সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি বিলের লিজ বাতিল, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ এবং লাল শাপলা বিলের প্রকৃত এলাকা নির্ধারণ করে বিলটি সংরক্ষণ করার জন্য। কিন্তু বিলের লিজ বাতিল করা হলেও অজ্ঞাত কারণে বিলের এলাকা নির্ধারণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিলের সীমানা এলাকা চিহ্নিত না হওয়ায় প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্রের সদস্যরা বিলের প্রায় ২ শত বিঘা জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ ও লাল শাপলা নষ্ট করে ফসলি জমিতে রূপান্তর করছে।

শেয়ার করুন