২৬ ডিসেম্বর ২০১৯
এ টি এম তুরাব (অতিথি প্রতিবেদক) : সিলেটে হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন মানুষজন। কনকনে ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। আর শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভিড় জমাচ্ছেন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে। গত দু’দিনে বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যায়ও।
এদিকে, শীত বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত ও জমি চাষাবাদ করতে বেগ পেতে হচ্ছে কৃষকদের।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামীকাল থেকে আবহাওয়া উষ্ণ হতে পারে। পরিবেশে যে তাপমাত্রা আছে তা শুষে নিচ্ছে কুয়াশা ও বাতাসের আর্দ্রতা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা নেই বলে পরিবেশ গরম হতে পারছে না।
এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরের মেডিসিন বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে অসংখ্য ভিড়। জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে আসছেন মানুষ। আর এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। এসব রোগীদের অনেকের মধ্যে হাঁপানি দেখা দিয়েছে। কাউকে দেখা গেল খুব ঘন ঘন হাঁচি দিতে।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, নভেম্বর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত সিলেটে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৪০ জন, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩২১ জন ও অন্যান্য রোগে ৩ হাজার ৯৯০ জন।
ওসমানী মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, গত ৫ দিনে আউটডোরে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ২০ শতাংশ এবং ইনডোরে রোগী ভর্তি সংখ্যা বেড়েছে ১৫ শতাংশ।
চিকিৎসকরা জানান, যাদের সহজেই ঠাণ্ডা ধরে যায় তাদের এই শীতে সব সময় গরম পানি পানের অভ্যাস করতে হবে। শুধু শরীরটাকে গরম রাখতে হবে। শীতের এই ভাইরাসগুলো ঠাণ্ডার মধ্যে কার্যকর হয়। গরমে এগুলো টিকতে পারে না। এ সময় বাইরে চলাফেরা করলে ভালোভাবে শরীরকে ঢেকে নিতে হবে যেন ঠাণ্ডা বাতাস না লাগে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁরা আরো বলেন, হাঁচি এলে মুখে রুমাল চেপে ধরে হাঁচি দেয়া উচিত। তা হলে হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস দূরে ছড়িয়ে পড়বে না এবং অন্যকে সংক্রমিত করবে না।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, হঠাৎ ঠাণ্ডা বেড়ে যাওয়ার কারণে হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। মূলত বিগত ৫ দিন ধরে হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর ও প্রতিটি ইউনিটে রোগী বাড়ছেন। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরাই বেশি ভর্তি হচ্ছে। যেখানে আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০ জন রোগী ভর্তি হতেন সেখানে গত ৫ দিন যাবত প্রায় ৮৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার প্রকোপ তেমন একটা না থাকলেও শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে তারা।
এ ব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, ঠাণ্ডা বাতাস ফুসফুসে গেলে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা ঠাণ্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে।