৪ ডিসেম্বর ২০১৯
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : আজ ৪ ডিসেম্বর তাহিরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাহিরপুর উপজেলা ছেড়ে জামালগঞ্জ উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জ শহরের দিকে পালিয়ে যায়।
তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাহিদ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রৌজ আলীসহ অনেকেই জানান-তাহিরপুর উপজেলা ৫নং সেক্টরের ৪নং সাব সেক্টরের বড়ছড়া,টেকেরঘাট এর অধিনে ছিল। এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সারা রাত জেগে যুদ্ধ করে হানাদার বাহিনীদের কে পরাজিত করে।
উপজেলা সদরে অবস্থান রত পাকিস্তানী হানাদারদের শেষ বারের মত মরন কামর দেবার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করে। মেজর মুসলেদ্দিনের নেতৃত্বে সবাই একত্রিত হয়ে জাপিয়ে পড়ে উপজেলা সদরে ভোর ৪টার পর পর। কিন্তু এলাকা থেকে এর আগেই দখলার, নিষ্টুর, বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা নিজেদের করুন পরিনতির কথা স্বরন করে পালিয়ে যায়। এই সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভোর থেকে আনন্দে সবার মুখে উচ্চারিত হয় জয় বাংলা বাংলার জয় প্রতিধবনি। শুরু হয় আনন্দ মিছিল,মিছিলে মুখরীত হয়ে উঠে সারা উপজেলা।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান খেলু মিয়া বলেন, ১৯৭১সালে দেশ মাতৃকার মুক্তির টানে আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আম্ভর আলী যুদ্ধে যাপিয়ে পড়েছিলেন। বাবা বেঁচে থাকা কালিন বলেছিলেন,সেই সময়ে বর্বর পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর চরম ঘৃনিত কর্মকান্ডের কথা। নিজেকে তিনি ধরে রাখতে পারেন নি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে প্রতিশোধের স্পৃহায় বাবা যুদ্ধে চলে যান। তাই দিবস পালন করার জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা। এছাড়াও তাহিরপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ্য থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।