২৫ নভেম্বর ২০১৯


গোলাপগঞ্জের পর সদরেও ‘ব্যর্থ’ আওয়ামীলীগ

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : গোলাপগঞ্জ উপজেলার মতো সিলেট সদর উপজেলা কমিটি করতেও ব্যর্থ হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতারা। সিনিয়র নেতারা সমঝোতার মাধ্যমে সভাপতি-সম্পাদক মনোনীত করার প্রস্তাব দিলে তা না মেনে কাউন্সিলররা হট্টগোল শুরু করলে পন্ড হয়ে যায় কাউন্সিল। এতে কমিটি না করেই ফিরে আসেন নেতৃবৃন্দ।

এ নিয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কাউন্সিলরদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে এ নিয়ে অনেকে আপত্তি জানিয়েছেন। তাই আমরা এই তালিকা সংশোধনের কথা বলেছি। তালিকা সংশোধন করে পরে নতুন কমিটি করা হবে।

একযুগেরও বেশী সময় পর রোববার সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিলো। ওইদিন সন্ধ্যায় বিমানবন্দর এলাকায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দূল মোমেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলার যুগ্ম সম্পাদক সুজাত আলী রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মোশাহিদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন হোসেন প্রমুখ।

এদিকে, সন্ধ্যায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে রাতে শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে কমিটি গঠনের আলোচনা এলে সমঝোতার মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাছাই করার প্রস্তাব দেন উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতারা। তবে প্রার্থী ও অনুসারীরা ঐক্যমতে পৌছতে না পারায় হট্টগোল দেখা দেয়। কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও সমঝোতায় পৌছতে ব্যর্থ হয়ে কমিটি না করেই ফিরে আসেন নেতারা।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন মফিজুর রহমান বাদশা, নুরে আলম সিরাজী, শাহানুর, নিজাম উদ্দিন, মাসুম আহমদ, রমিজ উদ্দিন বাবুল ও শাহাবুদ্দিন লাল।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন- হিরণ মিয়া, নজরুল ইসলাম বেলাল, ফজলুল করিম ফুল মিয়া, এইচএম মালিক ইমন, সাজিদ আহমদ ও মকসুদ আহমদ মকসুদ।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩ নভেম্বর সিলেটের গোলাপগঞ্জেও সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয় জেলা আওয়ামী লীগ। সেখানে কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের কিছুক্ষণ অবরুদ্ধও করে রাখেন বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা। সে ঘটনার ১১ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত গোলাপগঞ্জে কমিটি ঘোষণা করতে পারে নি আওয়ামী লীগ। যার রেশ ধরে এবার সদর উপজেলাতেও সেই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটলো।

শেয়ার করুন