২২ নভেম্বর ২০১৯


ভারতে পালাতে চেয়েছিলেন সালাম মেম্বার

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : জকিগঞ্জে যুবককে বর্বর নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই ইউপি মেম্বারসহ আটককৃতরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কানাইঘাট উপজেলার কারাবাল্লা সীমান্ত দিয়ে দেশ থেকে পালানোর চেষ্টাকালে তাদের আটক করা হয়।

নির্যাতনের ঘটনায় আটককৃত ২ ইউপি মেম্বারসহ চারজনকে নিয়ে রাতেই সিলেটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম।

তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ন্যাক্কারজনক ভিডিওটি ভাইরাল হয় বুধবারে। তাতে দেখা যায় একজন লোককে মাথা মাটির দিকে ও পা উপরের দিকে দিয়ে বাঁশে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। পাশে থেকে কিছু উৎসুক লোক দেখছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত হয়ে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে ৩টি টিম গঠন করা হয়। জকিগঞ্জ সার্কেল অফিসারের নেতৃত্বে থানার ওসিসহ একটি টিম, আরেকটি টিম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এবং ওপর টিমটি কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রধান করে করা হয়।

তিনি আরো বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে আসামিরা ভারতে পালিয়ে যেতে পারে, বিষয়টি সামনে এনে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়। আসামিরা যাতে পালাতে না পারে, এ জন্য বিজিবিসহ অন্যান্য এজেন্সির সাহায্য নেওয়া হয়। বুধবার রাতভর সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম আরো বলেন, রাত জাগার পরও দমে থাকেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিনে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। সন্ধ্যা নেমে আসলে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকেই তাদের আটক করা হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নির্যাতিত যুবক গিয়াস উদ্দিন (৩৫) উপজেলার ৩ নং কাজলসার ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের সফর আলীর ছেলে। ১৫ জানুয়ারি মোবাইল চুরির দায়ে বাদুড় ঝোলা করে তাকে ওই গ্রামের এবাদ মেম্বারের বাড়িতে নির্যাতন করা হয়। আর তাকে নির্যাতনকারী উপজেলার কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সালাম।

জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মোহাম্মদ আব্দুন নাছের বলেন, রাতে এ ঘটনায় নির্যাতিত গিয়াস উদ্দিন বাদি হয়ে আব্দুস সালাম মেম্বারকে প্রধান করে ৪ জনের নামোল্লেখ পূর্বক অজ্ঞত ৩/৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় আটক ৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

শেয়ার করুন