৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত। চলতি বর্ষা মৌসুমের টানা বর্ষণ ও ভারী যানবহন চলাচলের কারণে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঈদে সিলেটে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। ঈদের আগে মহাসড়ক সংস্কারের জন্য নির্দেশনা থাকলেও এ সড়কটিতে তেমন কোনো কাজ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বর্ষণে ফলে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার রাস্তায় ছোট-বড় কয়েক হাজারের অধিক খানাখন্দের সৃিষ্ট হয়েছে। রাস্তায় পিচ ও ইটের খোয়া উঠে গেছে। দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় কোথাও কোথাও তৈরি হচ্ছে বড় বড় পুকুরের মতো গর্ত। যার ফলে প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবেই সড়কটি ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এতে আহত ও নিহত হচ্ছে যাত্রীসাধারণ, পথচারীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনগুলো।
পরিবহণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত প্রায় ৬০ কি.মি. রাস্তা যেতে বড়জোর দেড় ঘন্টা সময় লাগার কথা। বর্তমানে সড়কটিতে যাত্রায়াত করতে সময় লাগে কমপক্ষে ৩ ঘন্টা।
তারা আরো জানান, সড়কটির এই বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ছে। যে-কোনো সময় এই মহাসড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, দূরপাল্লার বাস, টেম্পো, পিকআপ, অটোরিকশা সহ সহস্রাধীক যানবাহন চলাচল করে।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের শুক্রবারী বাজার, হরিপুর, খরিচের সেতু, পাখিটিখি, ফরফরা, দরবস্ত বাজার, সারিঘাট উত্তর ও দক্ষিণপার, ফেরিঘাট দক্ষিণপার, ইমরান আহমদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ গেইট, জৈন্তাপুর বাস স্ট্যান্ড, চাঙ্গিল বাজার, কদমখাল, রাংপানি, ৪ নম্বর বাংলা বাজার, আর্দশগ্রাম, আসামপাড়া, শ্রীপুর, আলুবাগান, নলজুরী, তামাবিল, বিজিবি ক্যাম্প, মোহাম্মদপুর আপ, মামার দোকান, বল্লাঘাট এলাকায় রয়েছে পুকুরের মতো অনেক গর্ত। মাঝে মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ লোক-দেখাতে নিম্নমানের ইট ও বালু ফেলে গর্তগুলো ভরাট করলেও রাতের বৃষ্টির পানি নিয়ে যায়।
(আজকের সিলেট/৩ সেপ্টেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)