১৭ মার্চ ২০১৯


নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষন : মামলা গ্রহনে পুলিশের অনীহা; প্রভাবশালী মহলের ধামা চাঁপার চেষ্টা

শেয়ার করুন

নিজামুল হক সাগর, মৌলভীবাজার থেকে : মৌলভীবাজার এলাকার বেজবাড়ীর বাসিন্দা, বেজবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া বেগম (১৬) কে স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রাইভেট কার দ্বারা জোর পূর্বক আপহরন করে একটি নির্মানাধীন বিল্ডিং এর ২য় তলায় নির্জন স্থানে নিয়ে পালাক্রমে গনধর্ষন করেছে সুমন আহমেদ নামের যুবক ও তার সহযোগীরা। অদ্য ১৭ই মার্চ বিকাল ৩.০০ ঘটিকা হইতে সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকার মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। বেজবাড়ী গ্রামের দরিদ্র যুবতীর মাতা মরিয়ম বেগমকে মামলা না করার জন্য হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকরা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার রফিনগর গ্রামের মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে সুমন আহমদ দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুলে যাওয়া আসার সময় সুন্দরী ষোড়শী সুমাইয়া বেগম কে প্রেম নিবেদন করে আসছিলেন। কিন্তু সুমাইয়া বেগম তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুদ্ধ ছিল সুমন। অদ্য সুমাইয়া বেগম বিদ্যালয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে অংশ গ্রহন শেষে তার সহপাঠী ফাহমিদা বেগমকে নিয়ে বাড়ী ফিরছিল। বিকাল অনুঃ ৩.০০ ঘটিকার সময় সুমাইয়া বেগম বেজবাড়ী খৃষ্টান মিশনারীর সামনে আসার সাথে সাথে পূর্ব হতে তৎপেতে থাকা সুমন আহমেদ ও তার সহযোগীরা অস্ত্রের মুখে সুমাইয়া বেগমকে অপহরন করে নিয়ে যায়।

সুমাইয়ার মাতা মরিয়ম বেগম সুমাইয়ার সহপাঠী ফাহমিদা বেগমের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ-পাশের ব্যবসায়ীদের নিকট হতে জানতে পারেন সুমন আহমেদ ও তার সহযোগীরা সুমাইয়াকে অপহরন করেছে। তিনি মৌলভীবাজার সদর থানায় এজাহার নিয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জি,ডি এন্ট্রি করে একজন এস, আই ও ৬ জন সিপাহীকে তদন্তে ও অপহৃতাকে উদ্ধার করতে প্রেরণ করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মৌলভীবাজারস্থ কলিমাবাদ আবাসিক এলাকার নির্মানাধীন একটি বিল্ডিং এর ২য় তলা হইতে হাত- পা ও মুখ বাধা অবস্থায় অপহৃতা সুমাইয়া বেগমকে উদ্ধার করে ।

পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অপহরন কারীরা পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া বেগম জানায় তাকে সুমন আহমেদ ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক পালাক্রমে একাধিকবার ধর্ষন করেছে। পুলিশ সুমাইয়াকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। কিছুক্ষন পর সুমনের সহযোগীদের নাম ঠিকানা জানতে পারেন ধর্ষিতার মাতা মরিয়ম বেগম। সেমতে এজাহার লেখে থানায় গেলে আসামীদের নাম দেখে ও,সি মামলা গ্রহণে তাল-বাহানা শুরু করেন।

ধর্ষিতার মাতা মরিয়ম বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বড়লেখা থানার রফিনগর গ্রামের মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে সুমন আহমেদ তার সহযোগী চাদনী ঘাট নিবাসী আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল্লা আল মামুন, সদর থানার বেজবাড়ী নিবাসী এম, এ, মুমিনের ছেলে আব্দুর রহিম রিপন, কলিমাবাদ আবাসিক এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে আবুল কাশেম, মৌলভীবাজার অনিকা কালেকশন নামক দোকানের মালিক ওয়েছ আহমদ ও মৌলভীবাজার বিলাস মার্কেটের ম্যানেজার ওমর আশরাফ। ধর্ষনকারীদের মধ্যে তিন জন একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র নেতা ও ২জন স্থানীয় যুবনেতা।

মৌলভীবাজার সদর থানার ওসি আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, আসামী সনাক্ত ও প্রাথমিক তদন্ত করার কারনে মামলা দায়ের বিলম্ব হবে। এদিকে ধর্ষিতার মাতা মরিয়ম বেগম জানান অজ্ঞাত কারনে ওসি মামলা গ্রহনে নানা রকম অজুহাত দেখাচ্ছেন। থানা মামলা না নিলে তিনি আদালতের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, ধর্ষকরা প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ট সহচর ও রাজনৈতিক দলের ছাত্র ও যুবনেতা বিধায় ঘটনা ধামা-চাঁপা দেয়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে। সুমাইয়া বেগমের পিতা মনির আলী কিছুদিন পূর্বে মারা যান। তার কোন ভাই নেই। দরিদ্র সুমাইয়ার ধর্ষকরা শাস্তি পাবে কিনা এ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা রুজু বা আসামী গ্রেফতার হয়নি।

শেয়ার করুন