১৬ অক্টোবর ২০১৯


বালাগঞ্জের নদীতে মৎস্য নিধনে স্থানে স্থানে ‘মরণ ফাঁদ’

শেয়ার করুন

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : বালাগঞ্জ উপজেলার বেতরী নদী, টলাখালি, রত্মানদীর স্থানে স্থানে রকমারি জাল পেতে অবাধে দেশীয় মাছ ধরা হচ্ছে। এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়েছেন, প্রভাবশালীদের মদদে ‘ভরজাল, বস্তাজাল, টানাজাল, কারেণ্টজাল’ প্রভৃতি জাল ব্যবহার করে স্থানীয় খাল, বিল, হাওরে মাছের আকাল সৃষ্টি করা হয়েছে। এক সময়ের মাছের এলাকা হিসেবে পরিচিতি বালাগঞ্জ, বাংলাবাজার, আজিজপুর, মোরারবাজার প্রভৃতি বাজারে এখন দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। অসাধু মাছ শিকারীরা স্থানীয় বাজারে মাছ বিক্রি না করে সিলেটের পাইকারী বাজারে বিক্রি করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা কামনা করেছেন। অবশ্য বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব অবৈধ জাল উদ্ধার ও দেশীয় মাছ রক্ষার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত জনপথ পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের দীর্ঘতম নদী বেতরী নদী, টলাখালি, রত্মা নদী প্রভৃতি নদী ও খালে অবাধে দেশীয় প্রজাতির ছোট ছোট মাছ ধরা হচ্ছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ‘ভরজাল, বস্তাজাল, টানাজাল, কারেণ্টজাল’ প্রভৃতি জালের মরণ ফাঁদ দিয়ে এসব মাছ ধরা হয়। সমগ্র খাল, নদী জুড়ে এসব জাল পেতে রাখা হয়। এমনকি এসব নদীতে নৌকা চলাচলের ক্ষেত্রেও অবৈধ মাছ শিকারীদের নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে এসব মাছ ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত বছর স্কুল পরীক্ষার্থীদের নৌকা আটকে রেখেও অবৈধ মাছ শিকারীরা তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এ নিয়ে মামলা পর্যন্ত হয়। অপরাধীরা এ বিষয়ে মুছলেকা দিলেও এসব নদীতে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ হয়নি।

বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য স্বপন কান্তি দাস সপু এবং স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বেতরী নদী বালাগঞ্জের অন্যতম দীর্ঘ নদী । পাশাপাশি টলাখালি, রত্মা নদী প্রভৃতি খাল ও নদী পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রবাহিত হয়েছে। এসব খাল ও নদীর স্থানে স্থানে অসংখ্য জাল পেতে রাখা হয়েছে। এসব জালে ছোট-বড় সকল আকারের মাছ আটকা পড়ে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের মৎস্য আহরণের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যায় রয়েছেন। এমনকি স্থানীয় হাট-বাজারেও দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। বিশেষ করে এসব অবৈধ মাছ শিকারীরা তাদের ধরা মাছ সিলেটের পাইকারী বাজারে নিয়ে বিক্রি করে দেয়।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এসব খাল, বিল, নদীতে অন্তত ২০/২৫টি বড় ধরণের জাল পেতে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী এসব জাল অপসারণ ও অবৈধ মৎস্য শিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আলাপকালে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব জানিয়েছেন, অবৈধ জাল উদ্ধার ও দেশীয় মাছ রক্ষার ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অভিযান চলছে।

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা (অ.দা.) নির্মল চন্দ্র বণিক জানিয়েছেন, ‘ভরজাল, বস্তাজাল, টানাজাল, কারেণ্টজাল’ প্রভৃতি জাল ব্যবহার করে স্থানীয় খাল, বিল, হাওরে দেশীয় মাছ রক্ষার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন