৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭
বিশেষ প্রতিবেদক : অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাম্প্রতিক বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি এখনো না নামায় সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি রয়েছে পানিবন্দি। বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে না যাওয়ায় কৃষকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট। তবে দু একদিনের মধ্যে তা নিরুপণ করা হবে বলে জানানো হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে সিলেটে লক্ষমাত্রার ৬৭ হাজার ৫শ ৯ হেক্টর আউশ আবাদের মধ্যে অর্জিত হয় ৬৪ হাজার ৮শ ২৫ হেক্টর। এর মধ্যে কৃষকরা ফসল তুলেছেন ৫৪ হাজার ৬শ ৯৩ হেক্টর এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৬শ ৭৩ হেক্টর জমি।
১লক্ষ ৪শ ৫০ হেক্টর আবাদকৃত রোপা আমন ও বীজতলা জমির মধ্যে ৩ হাজার ১শ ২২ হেক্টর রোপা আমন ও বীজতলা নিমজ্জিত রয়েছে। পানি কমে যাওয়ার ফলে তলিয়ে থাকা ৭ হাজার ৭শ ৪৫ হেক্টরের মধ্যে এখনো ২ হাজার ৯শ ৭০ হেক্টর এবং বীজতলা ২শ ৯১ হেক্টরের মধ্যে ১শ ৫২ হেক্টর নিমজ্জিত রয়েছে।
গত ২২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী সিলেট সদর উপজেলায় রোপা আমন ৫ হাজার ৯শ ৫০ হেক্টর আবাদকৃত জমির মধ্যে পাঁচশ এবং বীজতলা ৫শ ৮৫ হেক্টরের মধ্যে ১২ হেক্টর, দক্ষিণ সুরমায় রোপা আমন ৪ হাজার ৬শ’র মধ্যে ২০ হেক্টর, গোয়াইনঘাট রোপা আমন ৭ হাজার ৯শ ৭০ মধ্যে ৯শ হেক্টর এবং বীজতলা ৯শ ৫০ হেক্টরের মধ্যে ১শ হেক্টর, বালাগঞ্জ রোপা আমন ১০ হাজার ২শ ৮০ মধ্যে ৫০ হেক্টর এবং বীজতলা ১ হাজার ১শ ৩০ হেক্টরের মধ্যে ১৬ হেক্টর, কোম্পানীগঞ্জে রোপা আমন ৫ হাজার ৪শ হেক্টরের মধ্যে ১ হাজার হেক্টর এবং বীজতলা ৬শ ১১ হেক্টরের মধ্যে ১৫ হেক্টর, বিশ্বনাথে রোপা আমন ৬ হাজার ৬শ ৪০ হেক্টরের মধ্যে ১শ হেক্টর এবং বীজতলা ৮শ ৯৫ হেক্টরের মধ্যে ২ হেক্টর, ফেঞ্চুগঞ্জে রোপা আমন ২ হাজার ৫শ হেক্টরের মধ্যে ৫০ হেক্টর এবং বীজতলা ৩শ ৫ হেক্টরের মধ্যে ২ হেক্টর, গোলাপগঞ্জে রোপা আমন ৬ হাজার ৭শ হেক্টরের মধ্যে ৫০ হেক্টর এবং বীজতলা ৭শ ৯৬ হেক্টরের মধ্যে শূন্য হেক্টর, কানাইঘাটে রোপা আমন ১৪ হাজার ৯শ ৫০ হেক্টরের মধ্যে ৩শ হেক্টর এবং বীজতলা ১ হাজার ২শ ২০ হেক্টরের মধ্যে ৫ হেক্টর নিমজ্জিত রয়েছে।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেক কৃষকের আবাদকৃত ফসল এবং বীজতলা দুটোই পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় তাঁরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন। দক্ষিণ সুরমা ও জকিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা হাটু ও কোমর পানিতে নেমে আধা কাচাপাকা ধান কাটছেন।
কৃষকরা জানান, দিনে গরমে পানি কিছুটা কমলেও রাতের বৃষ্টিতে পানি আরো বেড়ে যায়। এ প্রতিকূল অবস্থায় নিয়ে ধান ঘরে তুলতে হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, বন্যায় কৃষদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে ফসলি জমির পরিমান উল্লেখ করে কৃষকদের সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কৃষকরা যাতে সার বীজ পান সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার পানি এখনো নামেনি। এতে জেলার বহু কৃষক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
তিনি আরো জানান, রোপা আমন ও বীজতলাসহ কৃষকের বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে রোপা আমন চাষের জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নিতে আরো সময় লাগবে। একই সঙ্গে কৃষকের এ সময় প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তারও প্রয়োজন হবে। কৃষকদের পুনর্বাসনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
(আজকের সিলেট/৭ সেপ্টেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)