২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
উপজেলা প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সড়কের পাশের গাছে গাছে পেরেক ঠুকে লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন। এতে রোগাক্রান্ত হচ্ছে গাছ, নষ্ট হচ্ছে শহরের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আইনে দন্ডনীয় অপরাধ হলেও মানুষের নিষ্ঠুরতার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পরিবেশ ও মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু গাছ।
কমলগঞ্জ পৌর এলাকা, মুন্সিবাজার, শমসেরনগর, আদমপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার রাস্তার পাশের গাছের কোন না কোন অংশ এখন যেন আর ফাঁকা নেই। বিনা খরচে, কোন প্রকার বাধা ছাড়াই প্রাতিষ্ঠানিক পণ্যের প্রচারণার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে গাছ। গাছগুলোতে পেরেক ঠুকে লাগানো হয়েছে রাজনৈতিক শুভেচ্ছা ব্যানার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িভাড়া, হারবাল ঔষধ বিক্রির বিজ্ঞাপন। গাছের গায়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের কারণে একদিকে যেমন গাছগুলো ঠিক বেড়ে উঠতে পারছে না, তেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ অবস্থা তৈরি হয়েছে চার-পাঁচ বছর আগে থেকে। এর আগে হাতেগোনা দু-একটি ছাড়া খুব বেশি সাইনবোর্ড চোখে পড়ত না। সম্প্রতি গাছে সাইনবোর্ডের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিবিদদের সাইনবোর্ডের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। নববর্ষ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষেও রাজনীতিবিদদের শুভেচ্ছা সাইনবোর্ড দেখা গেছে। তাছাড়া নতুন নতুন চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচিতি জানান দিতে এখন গাছে গাছে পেরেক ও তারকাঁটা দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।
কমলগঞ্জ জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আহমদ আজাদ মান্না বলেন, বিজ্ঞান বলছে, গাছের জীবন আছে। যেহেতু গাছের জীবন আছে সেহেতু তার ব্যথা যন্ত্রণাও আছে। গাছে পেরেক ঠুকলে তার খাবার সংগ্রহে বাধা তৈরি হয়। তাছাড়া, পেরেক ঠুকা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন অনুজীব প্রবেশ করে গাছটি ধীরে ধীরে মরে যেতে পারে। গাছ বাঁচাতে গাছে পেরেক না ঠুকার অনুরোধ জানান তিনি। তাদের সংগঠন অতি দ্রুত গাছ থেকে পেরেক অপসারণের উদ্যোগ নেবে।
এ বিষয়ে লাউয়াছড়া বনবিটের রেঞ্জার মোনাইম হোসেন বলেন, গাছে পেরেক ঠুকা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে গাছের স¦াভাবিক বৃদ্ধি লুপ পাচ্ছে এবং গাছের খাবার সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পেরেক ঠুকার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বন বিভাগ পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল বলেন, এটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পরিবেশের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। পেরেক অপসারণে বন বিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তর উদ্যোগ নিলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।