১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯


মামলা থেকে আসামী বাদ দেওয়ার অনুরোধ অধ্যক্ষের!

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট

সিলেট : সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র খুনের মামলা থেকে এক আসামিকে বাদ দেয়ার জন্য থানার ওসির কাছে চিঠি দিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন কেন্দ্রের অধ্যক্ষ। ২৪ জুলাই খুন হন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ তুহিন।

ওই মামলায় কলেজের ছাত্র সায়েম আহমদ সুমনসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। থানা পুলিশ মামলার তদন্ত করছে। কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়ালিউল্লাহ মোল্লা সম্প্রতি প্রভাবিত হয়ে মোগলাবাজার থানার ওসিকে চিঠিটি দেন।

চিঠিতে আইনবহির্ভূতভাবে তিনি সুমনকে নির্দোষ দাবি করে মামলার আসামি থেকে তাকে বাদ দেয়ার অনুরোধ করেন। চিঠি দেয়ার আগে অধ্যক্ষ ওয়াজিউল্লাহ নিজ উদ্যোগে তার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৩ জন ইন্সট্রাক্টর দিয়ে খুনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিও গঠন করেন। ২৬ আগস্ট কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। এরপরই তিনি আগ বাড়িয়ে ওসিকে চিঠি দেন।

সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর তুহিন হত্যার মামলার অন্যতম আসামি সায়েম আহমেদ সুমন। গত সপ্তাহে তার মা রাসনা বেগম সিলেট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের মাধ্যমে মোগলাবাজার থানার ওসি বরাবর একটি আবেদন করেন।

এরপর খুনের ঘটনা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ জেনেও অধ্যক্ষ নিজ উদ্যোগে ইন্সট্রাক্টর শিরিন আক্তার, বাপ্পু পুরকায়স্থ ও মোয়াজ্জেম হোসেনকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি ২৬ আগস্ট অধ্যক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেয়।

প্রতিবেদনের কোথাও তুহিন হত্যায় সুমন জড়িত নয় এ রকম কিছু উল্লেখ নেই। অথচ ‘সায়েম আহমদ সুমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়’- এই মর্মে দাবি করে ওসির কাছে চিঠি লিখে অধ্যক্ষ এজাহার থেকে সুমনকে বাদ দেয়ার আবেদন করেন। তদন্ত করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। তারা বলেছে, তদন্ত করলে রহস্য বেরিয়ে আসবে।

অধ্যক্ষের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে জানতে চাইলে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মহাপরিচালক (ডিজি) রওনক মাহমুদ বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত, এর দায় তাকেই নিতে হবে। এটা সরকারি চাকরির পরিপন্থী। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তিনি এভাবে লিখতে পারেন না।

মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর সিলেট বিভাগের পরিচালক প্রফেসর হারুন অর রশিদ বলেন, বুঝতে পারছি না তিনি কোন আইনে এ আবেদন করলেন। বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাড. শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বলেন, অধ্যক্ষ এটি করতে পারেন না। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, সরকারি কাজে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, কে চিঠি দিল আর না দিল এটা দেখার বিষয় নয়। আইনগতভাবে যা করার পুলিশ তাই করবে। তবে তদন্ত কাজে বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো কাজ কারও করা উচিত নয়। মোগলাবাজার থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, আমি চিঠি পেয়ে বিস্মিত।

বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিলেট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়ালিউল্লাহ মোল্লা দাবি করেন, টাকার লোভে বা অসৎ উদ্দেশ্যে নয়, বৃদ্ধ মহিলার কান্নাকাটি দেখে মানবিক দিক বিবেচনায় চিঠি লিখেছি। বেআইনি হয়ে থাকলে এজন্য দুঃখ প্রকাশ করব।

কোন এখতিয়ার বলে তদন্ত করা হল- জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। ২৪ জুলাই জুতা চুরির প্রতিবাদ করায় সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সহপাঠীদের হামলায় খুন হন তুহিন। সে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কম্পিউটারের ছাত্র ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণভাগ পলিতাফর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।

শেয়ার করুন