১১ আগস্ট ২০১৯
মুনশী ইকবাল, অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : ত্যাগ মহিমা নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা একেবারে দোরগোড়ায়। ১২ আগস্ট সোমবার সারাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদ মুসলমানদের উৎসব হলেও প্রতি বছর ঈদ ঘিরে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার মাঝেই বয়ে যায় আনন্দের উত্তাল হাওয়া। তবে এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই যেনো ভাটা পড়ে গিয়েছে আগস্ট শোকের কারণে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হন। তাই আগস্টের পনেরো তারিখ জাতীয় শোক দিবস। মাসের মাঝামাঝি শোকদিবস হলেও শুরু থেকেই একে শোক আর বেদনার মাস হিসেবে সবাই গণ্য করে থাকেন।
এবারের ঈদুল আজহা বলা যায় একেবারে শোকদিবসের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা সময়ে উদযাপিত হচ্ছে। ফলে কি বিপনী বিতান আর কি পশুর হাট সবখানেই যেনো অন্যরকম এক শোকের ছায়া। শোকের মাসে সবাই যেনো শোকে পাথর হয়ে গিয়েছে। তাই বলা যায় এবারের ঈদুল আজহার আনন্দ অনেকটাই যেনো শোকের নিচে ভাটা পড়েছে।
অন্যান্য বছর ঈদের মাসখানেক আগ থেকে যেখানে শুভেচ্ছা জানানোর বন্য চোখে পড়ে এবার বন্যা তো দূরে থাক সাধারণ শুভেচ্ছা জানতেও দেখা যাচ্ছেনা অনেককেই। ভার্চুয়াল জগত কিংবা শহর বন্দরের অলি গলি কোথাও দেখা যায়নি শুভেচ্ছা পোস্টারের ছড়াছড়ি। সবই যেনো ঝিম ধরে গিয়েছে।
সিলেট নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা জিন্দাবাজার। বেশ কয়েকটি বড়ো বড়ো বিপনীবিতানের অবস্থান এই এলাকায়। শুক্রবার ঈদের মাত্র দুইদিন আগে রাস্তায় সন্ধ্যার পরই দেখা গেলো লোকজনের আনাগোনা অন্যান্য দিনের মতোই। আর বিপনীবিতান গুলোতে যেনো শ্মশানের নিরবতা বিরাজ করছিলো। নগরীর সবচেয়ে অভিজাত এবং ব্যস্ততম একটি শপিং সেন্টার আল হামরা। ঈদের সময় অভিজাত শ্রেণীর সবচেয়ে বেশি বেচাবিক্রি আর লোকজনের আনাগোনা হয় এই মার্কেটে। শুক্রবার এর চিত্র ছিলো গেলো বছরগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। অল্প যে কয়েকজন ক্রেতা আসছিলেন তাদের মধ্যে ছিলোনা কোনো আলাদা উচ্ছাস, যা সাধারণত ঈদের সময় দেখা যায়। একই চিত্র ব্লু-ওয়াটার, সিটি সেন্টার, মিলেনিয়ামসহ অভিজাত বিপনী বিতানগুলোতেও।
বিক্রিতারা অনেকেই বলছেন এবারের ঈদটা কেমন যেনো। অন্যান্য বার তারা এমনটি দেখেননি। বেচাবিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। গত এক সপ্তাহে যে বিক্রি হয়েছে তা বছরের অন্যান্য সময় সাধারণ মাসেই এরচেয়ে ভালো থাকে। কিন্তু এবারের ঈদের মৌসুম তাদের খুব মন্দা যাচ্ছে।
নগরীর মধ্যবিত্তদের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিপনীবিতান শুকরিয়া, মধুবন ও হাসান মার্কেটেও প্রায় কাছাকাছি চিত্র। এর পাশাপাশি ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকেই। সব জায়গায়ই ক্রেতার আকাল।
এইসব বাজার ছাড়িয়ে পশুর হাটেও দেখা গেছে ক্রেতার স্বল্পতা। ঈদুল আজহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ পশু কুরবানি। ফলে পরিচিত বড়ো পশুর হাটের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় পশুর হাট বসে থাকে। সিলেটের সবচেয়ে বড়ো পশুর হাট কাজিরবাজার। শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেলো পশু আছে ক্রেতা নেই। ব্যবসায়ীরা বললেন, আসলে কিছুদিন আগে হঠাৎ করে বন্যা দেখা দেয়ায় অনেকেরই আয় রোজগারে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। শোকের মাসের কারণে এতে কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, আসলে সেভাবে তো আমার কিছু বলতে পারছিনা। তবে লোকজনের আচরণে মনে হচ্ছে যেনো তাদের দেহে কোনো প্রাণ নেই। ঈদের সময় এই চিত্র মোটেই স্বাভাবিক নয়।
ঈদের আনন্দে শোকদিবস আসলেই ভাটা ফেলেছে কিনা জানতে চাইলে এই প্রজন্মের তরুণ সাংবাদিক কামরুল ইসলাম মাহি বলেন, ‘একটা কথা আছে অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর। লোকজনের আচরণে মনে হচ্ছে তারা যেনো শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন। আমরা সেই ছোটবেলা থেকে শোনে এসেছি আগস্ট শোকের মাস। ১৫ আগস্ট শোকদিবস। এবার ঈদুল আজহা হচ্ছে ১২ আগস্ট। এবছর ঈদের কারণে শোকদিবসের অনুষ্ঠানও তেমন দেখা যাচ্ছেনা আবার ঈদের সেই আমেজও অন্যান্য বারের মতো চোখে পড়ছে না। ফলে শোকদিবসের কারণে ঈদের আনন্দে ভাটা পড়েছে কিনা সেটা আমরা বলতে না পরলেও শোকদিবস যে এবারের ঈদের আনন্দে বেশ প্রভাব ফেলেছে তা বলা যায়।’