২৮ আগস্ট ২০১৭


নগরীতে বৈধের চেয়ে অবৈধ পশুর হাট বেশি

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার ঈদে নগরীতে কুরবানির পশুর বৈধ হাট ১০টিও নয়। অথচ এই ১০টির বাইরেও নগরীতে ভাসমান হাট বসেছে অন্তত ২৩টি। রাজনৈতিক নেতাদের সাথে দরকষাকষি করে এসব অবৈধ হাট বসছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, তত অবৈধ হাটের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েই চলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, যারা এসব হাটের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবেন, তাঁরা মোটা অঙ্কের টাকায় ম্যানে হয়ে গেছেন। যে কারণে নীরব রয়েছে প্রশাসন।

এসএমপি, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট জেলা প্রশাসন একাধিক সভা জোর গলায় হুশিয়ারি দিয়েছিল, নগরে ও নগরের বাইরে প্রশাসনের অনুমোদনবিহীন তথা অবৈধ কোনো হাট বসতে দেয়া হবে না। কিন্তু সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নগরসহ সর্বত্র পশুর অবৈধ হাট বসানোর প্রতিযোগিতা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর ও শহরতলিতে যেসব অবৈধ পশুর হাট বসেছে, সেগুলোর নেপথ্যে রয়েছেন সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মীসহ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। শাহি ঈদগাহ এলাকাবাসীর উদ্যোগে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে বসেছে অবৈধ পশুর হাট।

এছাড়াও অবৈধ পশুর হাট বসেছে টিলাগড়, মেন্দিবাগ জালালাবাদ গ্যাস অফিসের পেছনে, কদমতলী ফল মার্কেটের সামনে, দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়া মসজিদের মাঠে, চন্ডিপুলে, টুকেরবাজারে, আম্বরখানা, সুরমা গেইট, শাহি ঈদগাহ মাজারের পাশে, রিকাবিবাজারে, বরইকান্দি, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, কুমারপাড়া ও সুরমা মার্কেটে বসেছে ভাসমান পশুর হাট। এসবের অনেক স্থানে দিনে বসানো হয় না, তবে রাতে গরু দাঁড় করিয়ে হাট বসানো হয়। এতে রাস্তার মধ্যে জটলা বাড়ছে। ভোগান্তিরও শেষ নেই।

গত ২২ আগস্ট এসএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অবৈধ হাট বসালেই কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাস। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নগরীর কোথাও অবৈধ কোনো হাট বাসতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে পশুবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজি ও চামড়া চোরাচালানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিলেটের জেলা প্রশাসন ও মহানগর পুলিশ সিলেটে পৃথক সভা করে এ হুঁশিয়ারি দেয়।

এদিকে সিসিক মেয়র আরিফও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, নগরীতে কোথাও কোনো পশুর হাট বসাতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তিনি হজে যাওয়ার পরদিনই সিসিক থেকে তিনটি হাটের জন্য ইজারা চাওয়া হয়।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হজে যাওয়ার পরদিন গত শুক্রবার সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামছুল হক পাটোয়ারী চারটি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর টেন্ডার আহ্বান করেন। এই হাটগুলো হলো, নগরীর সোবহানিঘাট, চালিবন্দর, ঝালোপাড়া ও কদমতলী এলাকায়। ফলে এ চারটি স্থানে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী পশুরহাট বসানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে ঝালোপাড়া মসজিদের মোতাওয়াল্লি মোস্তাক আহমদ জানান, ঝালোপাড়া মসজিদের মাঠটি শুরু থেকেই অবৈধভাবে হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটিকে বৈধ করতে সিসিক থেকে যদি কোনো ইজারা দেওয়া হয়, এ ব্যাপারে আমাদের মসজিদ কমিটির কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানি না।’

সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়, সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানার কাজিরবাজার পশুর হাট, বিমানবন্দর থানার লাক্কাতুরা চা-বাগান মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, দক্ষিণ সুরমা থানার লালাবাজার পশুর হাট, কামাল বাজার পশুর হাট, নাজির বাজার পশুর হাট, মোগলাবাজার থানার রেঙ্গা হাজীগঞ্জ বাজার, জালালপুর পশুর হাট, রাখালগঞ্জ বাজার পশুর হাট, শাহপরান (রহ.) থানার পীরের বাজার পশুর হাট, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে পশুর বৈধ হাট বসবে।

সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফরাবি বলেন, সদর উপজেলায় অস্থায়ীভাবে ৩টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর কোনো পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার জেদান আল মুসা (গণমাধ্যম) জানান, মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে, বৈধ পশুর হাট থেকে পশু ক্রয় করার জন্য। এছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদের অভিযান চালানো হবে।

 

(আজকের সিলেট/২৮ আগষ্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন