২০ জুলাই ২০১৯


এমসি কলেজে ৯ বছর থেকে কমিটি নেই ছাত্রলীগের

শেয়ার করুন

এ.এস রায়হান

সিলেট : ২০০৩ সালে তাজিম উদ্দিনকে সভাপতি ও সাইফুল ইসলাম টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিলো। আর ২০১০ সালের ১৩ জুলাই ছাত্রলীগ নেতা উদয়ন সিংহ পলাশ হত্যাকান্ডের পর বাতিল করা হয় কমিটি । আর এতেই কমিটি ছাড়া ৯ বছর পেরিয়ে গেছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি) ছাত্রলীগের।

বর্তমানে কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বহিরাগতরাই ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করছেন বিভিন্ন গ্রুপ- উপগ্রুপের ছত্রছায়ায়; এমন অভিযোগ কলেজের তৃণমূল ছাত্রলীগ কর্মীদের। অথচ এই কলেজ ছাত্রলীগকে সিলেট ছাত্রলীগের ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে অবহিতও করেন কেউ কেউ।

ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রীক বলয়ে বিভক্তি ও দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকার কারণে এমসি কলেজে বারবার সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এখানে সক্রিয় নেই ছাত্রশিবির, ছাত্রদল। হাতেগুনা কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন আর ধর্মভিত্তিক দুয়েকটি দল ছাড়া কেবল ছাত্রলীগের অবস্থানই ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান। ক্যাম্পাসে একক ছাত্রলীগের অবস্থান থাকলেও অন্তঃকোন্দলে বারবার নিজেরাই সংঘাতে জড়াচ্ছে তাঁরা। এমনকি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদেরও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে সবসময়ই আতঙ্কে থাকেন ক্যাম্পাসে অবস্থান করা সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ ১৭ জুলাই কলেজের ছাত্রনেতা সৌরভ ও সাবেক ছাত্রনেতা সঞ্জয় চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর অভ্যন্তরীন বিরোধের জেরে নগরের টিলাগড়ে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদকে খুন করা হয়। ঘটনার দুদিন পর ১৮ অক্টোবর মিয়াদের বাবা বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নাম আসার পর সেদিনই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ সিলেট জেলা কমিটি বাতিল করে।

আর ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে রাত পৌনে ৯টার দিকে টিলাগড় পয়েন্টে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তানিম আহমদ খান। এর পরবর্তী সময়ে বহুবারই এমসি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ রয়েছে- বেশিরভাগ সময়ই সংঘাতে অংশ নিচ্ছে ও মদদ দিচ্ছে কলেজের বহিরাগতরা। বিশেষ করে বহিরাগতরা কলেজ ছাত্রলীগে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমসি কলেজের এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, আমাদের ক্যাম্পাসে কমিটি না থাকায় পাশ্ববর্তী সিলেট সরকারী কলেজের ছাত্রলীগ নেতারা আধিপত্য বিস্তার করতে এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান।

অপর আরেকজন জানালেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে কমিটি নেই আমাদের কলেজের। কমিটি না থাকায় বহিরাগতদের অনেকেই ক্যম্পাসে রাজনীতির নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। ছাত্ররাজনীতির প্রাণ ফিরে আনতে খুব শীঘ্রই এমসি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, টিলাগড়কেন্দ্রীক রাজনীতি যখন উত্তপ্ত হয় তখনই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। উত্তপ্তের ঘটনায় সংঘাত পরে নিজ সংগঠনের কর্মী খুন ও পঙ্গু হওয়ার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কথায় কথায় অস্ত্রের মহড়া আর শত বছরের পুরনো ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও আছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন রাহি বলেন, ‘আমরা চাই এমসি কলেজের ছাত্রলীগের কমিটি দ্রুত দেওয়া হউক। পাশাপাশি সব দ্বন্দ্বের বাইরে যাতে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়।’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আসলে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে কমিটি না থাকা একটি বিব্রতকর অবস্থা মনে হচ্ছে। যদি কমিটি দেওয়া হয় তবে সুষ্ট গণতন্ত্র চর্চা একটি নতুন প্লাটর্ফম তৈরী হবে।’

আগামী আগষ্ট মাসের পরে এমসি কলেজ ছাত্রলীগ কমিটির ব্যাপারে একটি ইতিবাচক সাড়া আসতে পারে বলেও জানান নগর আওয়ামী লীগের এই র্শীষ নেতা।

এ বিষয়ে কথা বলতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন