২১ জুন ২০১৯


সিলেটে ভুট্টার আশাব্যঞ্জক উৎপাদন

শেয়ার করুন

ইউনুছ চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক)

সিলেট : সিলেটে নতুন ফসল ভুট্টা চাষে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন। উৎপাদনের এ হার উত্তরবঙ্গের প্রায় সমান। সিলেটে নতুন ফসল হিসেবে ভুট্টার ভালো ফলন পাওয়ায় চাষী ও কৃষি বিভাগের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। যদিও কৃষকরা ভ্ট্টুার বাজারজাতকরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের নতুন ফসল বাজারজাতকরণে তারা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগও করা হয়েছে।

সিলেট কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর সিলেট বিভাগের ৭২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ২৬৫ হেক্টর, মৌলভীবাজার ৮৫ হেক্টর, হবিগঞ্জে ১শ হেক্টর এবং সুনামগঞ্জে ২৭৫ হেক্টর জমি রয়েছে।

এদিকে, চার জেলায় মোট উৎপাদন পাওয়া গেছে ৫ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সিলেটে ২ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন, মৌলভীবাজার ৫১০ মেট্রিক টন, হবিগঞ্জ ৭০০ মেট্রিক টন এবং সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৭১ মেট্রিক টন। গড়ে প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে ৭ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে ভুট্টা অন্যতম। সিলেট অঞ্চলে নতুন বা বিকল্প ফসল হিসেবে ভুট্টার উৎপাদন আশাবাঞ্জক। তিনি বলেন, ভুট্টা চাষে সুবিধা অনেক। পতিত জমিতে চাষ করা যায় এবং ধানের মধ্যে এতো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। উৎপাদনও ভালো পাওয়া যায়। ধান হেক্টর প্রতি ৪/৫ মেট্রিক টন পাওয়া যায়-সেখানে ভুট্টা উৎপাদন হয় ৮/ সাড়ে ৮ মেট্রিক টন। ফলে কৃষকরা ধানের সাথে অন্য জমিতে ভুট্টা চাষ করে লাভবান হতে পারবেন। আবার একই জমিতেই ধান কাটার পর ভুট্টা চাষ করা যায়। নভেম্বরের শেষের দিকে ভুট্টা রোপণ করে এপ্রিলে কর্তন করা যায়।

তিনি বলেন, ভুট্টার নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। ভুট্টার পাতা উৎকৃষ্ট গো খাদ্য। এর গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, গো খাদ্যের পাশাপাশি দানাদার গো খাদ্য, পোল্ট্রি ফিড, মৎস্য ফিডসহ পশু পাখির সকল খাবার তৈরিতেই ভুট্টা ব্যবহার হয়। অপরদিকে, মানুষের খাদ্য তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার হয় ব্যাপক হারে। শিশু খাদ্য থেকে শুরু করে রোগীর পথ্য তৈরিতেও ভুট্টার ব্যবহার রয়েছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের লরিফর গ্রামের মো. আব্দুল কাশেম, নুরুল হক, বশির উদ্দিন, আব্দুল মুকিতসহ অনেকে ভুট্টার আবাদ করেছেন । কৃষক ও ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আব্দুল কাশেম জানান, ভুট্টার চাষে উৎপাদন ভালো পাওয়া গেছে। পরিশ্রমের তুলনায় ফলনও বেশি। কিন্তু, বাজারজাতকরণ প্রধান সমস্যা। সিলেটে এখনো ভুট্টার চাষ ও বাজার কোনটাই ব্যাপকতা লাভ করেনি। তবে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সরকার সহায়তা করলে তারা আগামী বছর চাষের পরিমাণ বাড়াবেন বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ পরিচালক সালাউদ্দিন আহমদ জানান, সিলেটের মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী তা প্রমাণিত হয়ে গেছে। মানুষের খাদ্য বলেন, আর পশু খাদ্য বলেন-ভুট্টার ব্যবহার বলে শেষ করা যাবে না। বিশে^র অনেক দেশেই ভুট্টা প্রধান ফসল ও প্রধান খাদ্য।

তিনি বলেন, কৃষকরা কয়েকটি ফসল চাষ করলে নিরাপদ থাকবেন। কোন কারণে একটি ফসল নষ্ট হলে অপর ফসলটি তাদের সহায়তা করবে। তবে, ভুট্টা চাষের একটি প্রধান সুবিধা হচ্ছে পানি কম লাগে। ফলে বৃষ্টি কম হলেও ভুট্টা চাষে কোন অসুবিধা হয় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহজাহান জানান, ফসল বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে মার্কেটিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ঢাকা, ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ কৃষক তাদের ফসল বিক্রি করে দিয়েছেন। সামান্য স্টক আছে।

তিনি বলেন, নতুন একটি সফল উৎপাদন হলে তার বাজার সৃষ্টিতে একটু সময় লাগে। সেসময় পর্যন্ত কৃষি বিভাগ তাদের সহায়তা করবে।

সিলেট অঞ্চলে নতুন ফসল হিসেবে ভুট্টা, সরিষা ও সুর্যমূখী আবাদের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছর এসব উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ বিশেষ নজর দেবে।

শেয়ার করুন