২৬ মে ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট:: ঈদে সিলেটের জন্য এবার রাখা হয়নি বিশেষ ট্রেন ব্যবস্থা। ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার স্বার্থে গেলো বছর সিলেটের জন্য বিশেষ ট্রেন রাখার ব্যবস্থা করা হলেও এবার সেই ব্যবস্থা নেই। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন-ঈদে সিলেট থেকে তেমন লোকজন যাওয়া-আসা করেননা, কিন্তু আসেন প্রচুর। পর্যটন অঞ্চল থাকায় ঈদেও ছুটিকে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে সিলেটে আসতে থাকেন। ফলে যাত্রীদের ভীড় নেই তেমন একটা।
বিগত বছরগুলোতে টিকিটের চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন রেলের কর্মকর্তারা। কিন্তু এবারের চিত্র পুরোই ভিন্ন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরে টিকিটের জন্য বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় নেই সিলেট রেলস্টেশনে। ফলে দালালদের দৌরাত্মও নেই তেমন। অথচ বিগত বছরগুলোতেও ঈদে আসন সংকটের কারণে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যেতে হয়েছে ট্রেনে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে চারটি বুথে নেই দীর্ঘ সারি। হাতেগোণা যে কয়েকজন যাত্রী দেখা গেলো তারাও নিয়মিত ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ে স্টেশনের সিএনএস’র কর্মকর্তা জহির হোসেন বলেন, ঈদের আগে সিলেট থেকে আর কত সংখ্যক যায়? বরং আসে বেশি। পর্যটকরাও ঈদের ছুটিতে সিলেটে ঘুরতে আসেন। লোকে লোকারাণ্য হয়ে ওঠে সিলেট। ফেরার পথে ভিড় থাকে বেশি। এ জন্য ঈদের পরবর্তী সময়ে টিকিট দিতে চাপ সামলাতে হয় বেশি। অবশ্য বিগত সময়গুলোতে ঈদের সময় মানুষের চাপ বেশি ছিলো, এবার তেমন নেই।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার কাজি শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবারের তুলনায় এবার ঈদের আগে টিকিট সংগ্রহের চাপ কম। অবশ্য ২৬ মে থেকে টিকিট দেওয়া শুরু হবে। ওই সময়ে বাড়তি চাপ থাকলে কোচ সংযোজন করা হবে। তবে ঈদে সিলেট থেকে যাত্রীদের চাপ কম থাকে বিশেষ ট্রেন চালুর প্রয়োজন হয় না। আবার ঈদের পরে কর্মস্থলে ফেরা এবং সিলেটে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ফেরার সময় টিকিট সংকট তৈরি হয়। তখন ট্রেনগুলোতে আলাদা কোচ সংযোগ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সিলেটে থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এরমধ্যে ঢাকা রুটে কালনী এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেস। চট্টগ্রাম রুটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, উদয়ন এক্সপ্রেস। এছাড়া ডাকবাহী ট্রেন সুরমা মেইল এক্সপ্রেস ঢাকা রুটে ও জালালাবাদ এক্সপ্রেস আখাউড়া রুটে চলাচল করে।
স্টেশন ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম আরো বলেন, আগে ট্রেনগুলোতে কোচ সংযোগ কম ছিল। সাবেক অর্থমন্ত্রীর সুপারিশে ট্রেনগুলোতে আরো সংযোগ দেওয়া হয়। এখন সিলেট রুটে কালনী এক্সপ্রেস ১১টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। এছাড়া পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন, পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস পাওয়ার কারসহ ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্রগ্রাম রুটে আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রী সাধারণের জন্য পর্যাপ্ত কোচ নিয়ে যাত্রা করে। পরে সব ক’টি ট্রেনে কোচ সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। পরে সাবেক অর্থমন্ত্রীর ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে কালনী ব্যতীত অন্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলো এখন ১৬টি বগি নিয়ে চলছে। আর ট্রেনগুলোতে অব্যবস্থাপনা থেকেই গেছে।