২৫ মে ২০১৯


জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের বেহাল দশা

শেয়ার করুন

উপজেলা প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর

সুনামগঞ্জ : প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক। বড় বড় গর্ত। বর্তমানে অনেকটা যান চলাচলে অনুপযোগী। সিলেটের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী একমাত্র এই সড়ক জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কটির বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কটি বর্তমানে অনেকটা যান চলাচলে অনুপযোগী। জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে সিলেট শহরে যাতায়াত করছেন।

এ উপজেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সিলেটে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন এবং একটি বড় অংশই সিলেট শহরে বসবাস করেন। নিত্যদিনের অফিসিয়াল কাজতো রয়েছেই। ফলে যাতায়াতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।

জগন্নাথপুরের ব্যবসায়ী লিটন দেব বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে চলাচল করতে ভয় লাগে। নিম্নমানের ইটের সুরকি দিয়ে কাজ করায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

জগন্নাথপুর সদর গ্রামের অধিবাসী সিলেট শহরের একটি ট্রাভেল এজেন্সির সত্ত্বাধিকারী অরুন চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়িক কারণে প্রতিদিনই সিলেট যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এদিকে প্রায়ই গর্ভবতী মহিলাদের নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সম্প্রতি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন মহিলার রাস্তার মধ্যে ডেলিভারি হয়ে যায়। রাস্তাটির করুণ দশার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এদিকে ২০১৭ সালের জুনে জগন্নাথপুর থেকে কেউনবাড়ী পর্যন্ত পৌণে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কে ২নং ইটের সুরকি ও নিম্নমানের বিটুমিন নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করা হলে ৪ মাসের মাথায় সড়কটি ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন থেকে সড়কটির বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।

নুরু কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী নাদের আহমদ। তিনি রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ উপজেলার সকল জরাজীর্ণ সড়কগুলো পুনর্নির্মাণের জোর দাবি জানান। সেই সাথে সরকারি টাকা যাতে লুটপাট না হয় এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারী এবং কাজ যেন প্রাক্কলন অনুযায়ী উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সঠিকভাবে করা হয় এবং টেকসই হয় এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত সড়কটির বড় বড় গর্ত ভরাট আমরা করে দেব।

শেয়ার করুন