১৩ মে ২০১৯


টাকা ছাড়া আঙ্গুলের ছাপ নেয়না জনশক্তি অফিস

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : নগরীর উপশহরে অবস্থিত জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস। জীবিকার তাগিদে যারা কাজের জন্য দেশের বাহিরে যান তাদেরকে এখানে আঙ্গুলের ছাপ দিতে হয়। পে অর্ডার চার্জ সহ ২২৩ টাকা ব্যাংক চালান দিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলেই বিদেশ গমনেচ্ছুকদের আঙ্গুলের চাপ নেয়ার কথা। কিন্তু তা আর হয়না। এই অফিসের বাহিরে অপেক্ষমান দালালদের কাছে ২০০/৩০০ টাকা দেয়ার পরই সবুজ সংকেত মিলে ভিতর থেকে, তার পর আঙ্গুলের চাপ নেয়া হয়। অন্যথায় বিদেশ যাত্রীকে বিভিন্ন অযুহাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

রোববার সকাল ১০ টা, আঙ্গুলের চাপ দিতে এসেছেন রিংকু (ছদ্মনাম)। অফিসের গলিতে প্রবেশ করতেই কয়েকজন দালাল রিংকুকে ঘিরে ধরে। তার পর দরদামের এক পর্যায়ে ২৫০ টাকায় রাজি হয় দালাল। এর পর ভিতরে গিয়ে আঙ্গুলের চাপ দিয়ে আসেন রিংকু।

মাহবুব (ছদ্মনাম) নামে এক বিদেশযাত্রী এসেছেন জেলার একটি উপজেলা থেকে। ব্যাংকে টাকাও দেয়া হয়েছে। তারপরও তিনি আঙ্গুলের ছাপ দিতে পারছেননা। বিভিন্ন অযুহাত দেখাচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। শেষ মেষ মাহবুরের ভরসা অফিসের বাহিরে অপেক্ষমান দালাল। অবশেষে ৩০০ টাকা দালালকে পরিশোধ করার পর ভেতরে গিয়ে আঙ্গুলের চাপ দিয়ে আসেন মাহবুব।

ট্রাভেল এজেন্সি সংশ্লিষ্টরা জানান, আমরা ব্যাংকে পে অর্ডার করার পর যাত্রীদের জনশক্তি অফিসে পাঠাই। তার পরও যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হন। আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই জনশক্তি অফিসের দালালদের ২০০-৩০০ টাকা দেই, শুধুমাত্র যাত্রীকে হয়রানী না করার জন্য।

সরেজমিন দেখা যায়, জনশক্তি অফিসের গলির মুখ থেকে অফিস পর্যন্ত প্রায় ১০/১৫ জন দালাল। নতুন কাউকে দেখলেই ফিঙ্গার দিবেন নাকি বলে কথা বার্তা শুরু করে। তার পর দরদাম ঠিক হওয়ার পর তাকে অফিসের ভেতরে পাঠানো হয়। আর দালালদের সাথে রফাদফা না হলে ভোগান্তি পোহাতে হয় বিদেশযাত্রীকে।

পরিচয় গোপন রেখে একাধিক দালালদেরে সাথে কথা বলে জানা যায়, এই অফিসের জরিপ কর্মকর্তা মাহবুব ও কাজলের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটই তাদেরকে অফিসের বাহিরে অলিখিত নিয়োগ দিয়েছে। এই টাকার একটি ভাগও নাকি যায় অফিসের বড়কর্তার কাছে। এজন্যই তারা দিব্যি বাহিরে একাজ করছে।

আটাব সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল আজকের সিলেটকে বলেন, জনশক্তি অফিসের সংশ্লিষ্টরা সিরিয়াল মেন্টেইনের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা আদায় করেন। এডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বাব বার ধরনা দেয়ার পরও আমরা এর প্রতিকার পাচ্ছিনা। এই যাত্রী হয়রানী বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মীর কামরুল হোসেন আজকের সিলেটকে বলেন, লোকজন দালালদের কাছে কেন যায়? আমাদের অফিসের বাহিরে থাকা দালালদের বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে মামলা করেছি।

তবে এই কর্মকর্তা মামলা সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দিতে পারেন নি।

নিজের অফিসের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি জোর দিয়ে অস্বীকার করলেও তিনি বলেন, আমার অফিসের বাহিরের দালালদের দায়িত্ব তো আমি নিতে পারিনা। আমার অফিসের কেউ এদের সাথে সম্পৃক্ত নয়।

দালালদের কাছে টাকা দেয়ার পর কাজ হয় কিভাবে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সুদুত্তর দিতে পারেন নি।

শেয়ার করুন