২৮ এপ্রিল ২০১৯
জেলা প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের পাথারিয়া থেকে বাংলাবাজারের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। এই রাস্তার ১০ কিলোমিটারই ভাঙা এবং ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক খানাখন্দ রয়েছে। সড়কের মধ্যভাগে লোহার রড বের হয়ে আছে, আবার কোথাও কোথাও হাঁটু সমান কাদা। ৬ বছর ধরেই ৭০ গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। দীর্ঘদিন রাস্তা সংস্কার না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এই রাস্তা দিয়ে আগে সিএনজি চালিত আটোরিকশা চলাচল করলেও সড়কের ভাটিপাড়া ও মধরাপুর অংশে বিশাল গর্তের কারণে তা চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাস্তায় এত বেশি পরিমাণ কাদা থাকে যে গাড়ি বা মোটরসাইকেলের চাকার বেশিরভাগই দেবে যায়। এ রাস্তা দিয়ে পাথারিয়া-বাংলাবাজার যাতায়াত করতে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হয় লোকজনকে। দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কার না হওয়ায় কালিয়াকোটা, ভাটিপাড়া,কুচিরগাঁও,উদির হাওরসহ ৫ হাওরের ধান পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
রামজীবনপুর গ্রামের মোটরসাইকেল চালক চাঁন মিয়া বলেন, ‘ভাড়ায় গাড়ি চালানোর জন্য নুতন বাজাজ গাড়ি কিনেছিলাম। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালানোয় এক বছরেই গাড়ি পুরান হয়ে গেছে। এটা সড়ক না দোজখ।’
ইসলামপুর গ্রামের আলী নূর বলেন, ‘ভোটের সময় সড়ক ঠিক কইরা দেওনের কথা কইয়া ভোট নেয়। আর ভোট শেষ হইলে সড়ক ঠিক করা তো দূরের কথা কারও কোনও খোঁজ পাওয়া যায় না।’
গাজিয়ারগাঁও দেবান্দ দাস বলেন, ‘দু’টি ইউনিয়নের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করেন। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও কেউ সড়কটির দিকে ফিরেও তাকায় না। জনগণ মাজা ভাইঙ্গা চলাচল করে।’
মীর্জাপুর গ্রামের সফিকুল বলেন, ‘জনসভায় মাইক লাগাইয়া সড়ক ঠিক করার কথা বলা হয়। মূলত এটি ভাওতা বাজি ছাড়া আর কিছু না। মানুষের কষ্ট হলেও কারও কোনও কিছু আসে যায় না। কারণ বড় লোকরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে না। তারা তো ইলেকশনের সময় আসে।’
রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন রেজোয়ান খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এ রুটে চলাচলকারী জনসাধারণ মারাত্মক র্দুভোগে রয়েছেন।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য দু’বার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু কোনও ঠিকাদার দরপত্রে অংশগ্রহণ করেননি। তবে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।’