১৫ এপ্রিল ২০১৯
উপজেলা প্রতিনিধি

কোম্পানীগঞ্জ : সড়কের মধ্যে বড় বড় গর্ত। কোনো কোনো গর্ত ছোট পুকুরের মতো আকার ধারণ করে আছে বৃষ্টির পানিতে । এর মধ্যে গাড়ি চলে হেলে দুলে। রাস্তাজুড়ে খানাখন্দ। এসব গর্তে জমে থাকে পানি। ফলে যাত্রীবাহী যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। কাদা-পানিতে একাকার সড়কে চলতে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।
রাস্তার বড় বড় গর্তে যাত্রীবাহী যান চলাচল তো দূরের কথা, মানুষের চলাচলও কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই ব্রিজ-কলাবড়ি-দয়ারবাজার সড়কের এমনই বেহাল অবস্থা।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ও উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের ১০ সহ¯্রাধিক লোকের চলাচলের রাস্তা এটি। এ রাস্তা দিয়ে কলাবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় এবং ভাটরাই উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও চলাচল করতে হয়। কিন্তু, গত কয়েক বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারবিহীন। এ কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ধলাই ব্রিজ-কলাবাড়ি থেকে দয়ারবাজার পর্যন্ত রাস্তার দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। এ সড়কটি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নির্মাণ ও পাকাকরণ করা হয়। সড়কটি সংস্কারের জন্য সম্প্রতি একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে, এখনো এ প্রকল্পের অনুমোদন মেলেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে রাস্তাটি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছেন তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে শত শত ট্রাক-ট্রাক্টর এবং যাত্রীবাহী অটোরিকশা চলাচল করছে। রাস্তা দিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সও চলাচল করতে পারে না বলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধলাই ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে দয়ারবাজার পর্যন্ত সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দেখলে মনে হবে এক একটা জলাশয়। এসব গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহনের চাকা বিকল হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ‘সড়কটির বেহাল দশায় খুব কষ্ট পাচ্ছি। কখন যে এ কষ্টের শেষ হবে কে জানে!’
অটোরিকশা চালক মাহমদ আলী জানান, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় গাড়ি কাদা-পানিতে আটকে থাকে।’
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গত কিছুদিন আগে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তাটির বেহাল দশা দেখতে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জি ও থানার ওসি (তদন্ত) জসিম উদ্দিন।