১০ এপ্রিল ২০১৯
জেলা প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ : বজ্রপাত। হাওরে একটি আতঙ্কের নাম। কয়েক বছরে হাওরে হতাহতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বৃষ্টির সময় বজ্রপাত আতঙ্কে হাওরে যেতে চান না কৃষক। আকাশে মেঘ দেখলেই কাজ ফেলে বাড়ি ফিরে আসছেন।
অথচ এ সময় হাওরে ধান কাটার কাজ চলে। চলে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষককে কাটাতে হয় খোলা প্রান্তরে। অথচ বজ্রপাত আতঙ্কে অসহায় হয়ে পড়ছেন হাওরের কৃষকরা।
বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাওর এলাকায় গত দুই বছর লক্ষাধিক তালবীজ রোপন করা হয়। তবে এই উদ্যোগেও তেমন সুফন পাচ্ছেন না হাওরবাসী। বেশিরভাগ তালবীজ থেকেই চারা গজায়নি।
আবহাওয়া অফিসের হিসেবমতেও, দেশের সবচয়ে বজ্রপাত প্রবণ এলাকা সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, বজ্রপাতে সুনামগঞ্জে ২০১৬ সালে মারা যান ১৮জন, ২০১৭ সালে ৮ জন আর ২০১৮ সালে ২০ জন।
এসব ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ বলেন, বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গতবছর হাওর এলাকায় তালবীজ রোপন ও বিতরণ করা হয়েছিলো। তবে এটা অনেক দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া। তাছাড়া হাওহ অঞ্চলে বেশিরভাগ সময়ই পানি থেকে। এতে বেশিরভাগ বীজই নষ্ট হয়ে গেছে। চারা গজায়নি। এই উদ্যোগটি ফলপ্রসু হয়নি।
তিনি বলেন, এখন আমরা হাওরের বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় হিজল করচ গাছ রোপনের উদ্যোগ নিচ্ছি। এর পাশপাশি শীঘ্রই আরও ২৫০০ তাল গাছের চারা হাওহ এলাকার স্কুলগুলোতে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।
সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলায় ২০১৮ সালে তালবীজ বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে তালবীজ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো তদারকি করা হয়নি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বড়মোহা গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া। তাঁর সাথে কথা হয় সুনামগঞ্জ২৪.কম এর। তিনি জানান, ‘হাওরে যেতে ডর করে। কোনসময় জানি ঠাডা পড়ে। ইতার লাগি ঘর থাকি বাড়াই না। কয়দিন ধরি খালি মেঘ আর ঠাডা দের ইতা দেইক্কা কিলা যাই হাওরো। আর কয়দিন ইলা চলবো আল্লায় জানইন।’
ডুংরিয়া গ্রামের সালামত মিয়া নামের অপর আরেক কৃষক বলেন, ‘আমার কিছু জমিন পাকনা ধরছে। আশা কররাম কয়দিন পর ধান কাটা শুরু করিদিমু। তবে এখন যেলা মেঘ আর ঠাডা শুরু হইছে হাওরে যাওয়া তো দুরের কথা ঘর থাকি অই বাড়াইতে ডর করে। যেলা মানুষ মরার খবর হুনরাম কিলা বাড়াই ঘর থাকি। হাওর ধান দেখাত যাইতাম অউ পাররাম না। অনে আমরার এলাকাত ঠাডার ডরে মানুষ ঘরবৈটি।’
সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ফরিদুল হক বলেন, বীজ বিতরণ করলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকার কারনে সেটা মনিটরিং করতে পারছি না। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে বীজগুলো রোপন করা হয়েছে কি না সেটা জানি না। এছাড়া বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে কৃষকের হাতে বীজ পৌঁছাতে অনেক বীজ নষ্ট হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটা অনেক দীর্ঘমেয়াদিও।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তালের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তাল গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে; যোগ করেন ফরিদুল হক।