৮ মার্চ ২০১৯
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

জগন্নাথপুর : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কৃষকের চাষের মাঠে বোরো ধানের সবুজ সমারোহ। হাওর বেষ্টিত উপজেলার কৃষকের প্রধান ফসল বোরোধান। প্রতিবছর সবকটি হাওরে বোরোধান চাষাবাদ হয়। বৈশাখ মাসে কৃষক তাদের কষ্টের বোরো ফসল ঘরে তুলে নবান্ন উৎসব পালন করেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগে ফসলহানি না হলে কৃষকরা এবছর ভাল ফলনের প্রত্যাশা করছেন।
চলতি মৌসুমে জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অকাল বন্যা থেকে কৃষকের বোরো সফল রক্ষায় হাওরে বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। গণমাধ্যমে চলতি মাসে ঝড় ,বৃষ্টি ও বন্যার সংবাদে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির শঙ্কা সংশয় দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সহ ভারীবর্ষণের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া আগাম আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাসে কৃষকের মধ্যে ফসল হারনোর এসব সংশয় দেখা দেয়।
একাধিক কৃষক এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে তারা আগাম বন্যায় ফসল হারানোর শঙ্কা সংশয়ের কথা জানিয়েছেন, স্থানীয় কৃষকরা আরো জানিয়েছেন, অনেক টাকা পয়সা খরচা করে ধান লাগিয়েছেন। এখন শুধু পাকা ধান কাটার জন্য একমাসের অপেক্ষা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে ফসল নিরাপদ থাকলে কৃষাণ কৃষাণীর মুখে হাসি ফুটবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি হাওরের বোরোধান আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যায়। কৃষকেরা তাদের ফসল হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেন। ২০১৮ সালে জগন্নাথপুর উপজেলার হাওর সমূহে প্রায় ৮৭ টি ফসল রক্ষা বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এবছরও উপজেলায় ৫০টি হাওর রক্ষা বেড়ীবাঁধ সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। সবকটি হাওরের বেড়ীবাঁধের কাজ শেষ পর্যায় রয়েছে।