২২ জানুয়ারি ২০১৯


‘হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম সহ্য করা হবে না’

শেয়ার করুন

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ‘এবছর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে কোনোরকম অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। দূর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে থাকবে প্রশাসন। যাদের দুর্নীতি বা অনিয়ম করার ইচ্ছা আছে, তারা ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ থেকে স্বেচ্ছায় সরে যেতে পারেন।’

মঙ্গলবার বিকালে শাল্লা উপজেলা পরিষদ গণমিলনায়তনে উপজেলার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের পিআইসিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ তাহমিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বাঁধের কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরী হয়েছে সত্য। তবে সকলের সহযোগিতায় ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কাজ শেষে করতে হবে। আমরা হাওরের কৃষকগণের মূখে হাসি দেখতে চাই। বাঁধের কাজে কোনোরূপ অনিয়ম হলে আপনারা আমাদেরকে সাথে সাথে জানাবেন। আমরা এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল-মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকরের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জমশের মনির।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোঃ শরিফুল ইসলাম, শাল্লা থানার অফিচার্জ ইনচার্জ মোঃ আশরাফুল ইসলাম ও শাখা কর্মকর্তা পওর বিভাগ মোঃ শমশের আলী মন্টু, হবিবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সুবল চন্দ্র দাস, চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল, বাহাড়া ইউপির চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র চৌধুরী প্রমূখ।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্বাহী প্রকৌশলী সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-২ খুশিমোহন সরকার। এর পর পরই উপস্থিত পিআইসি ও সুশীল সমাজের লোকজনের কাছ থেকে মুক্ত আলোচনা শোনা হয়।

এ মুক্ত আলোচনায় ৪নং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস ছত্তার মিয়া বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি গঠিত হয়নি। পাউবোর নীতিমালা একদিকে আর কমিটি অন্যদিকে।’

বাহাড়া ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আভা রাণী তালুকদার বলেন, এই পিআইসিতে পুরুষ মেম্বারদের রাখা হলেও আমাদের কেন রাখা হয়নি।

বাহাড়া ইউপির তাজপুর গ্রামের কৃষক মোঃ ফজল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘ভেড়াডহর হাওরের ৩৭নং পিআইসির সভাপতি ও সদস্য সচিব দু’জনকেই শাল্লা ইউনিয়ন থেকে এনে পিআইসি করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওই দুই ব্যক্তির বাঁধ এলাকায় একটি জমিও নেই।’

শাল্লা ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ জামান চৌধুরী বলেন, ‘এভাবে আরো দুই-এক বছর বাঁধের কাজ করলে বাঁধের কাছে মাটি পাওয়া যাবে না। তাই নির্মিত বাঁধগুলোর স্থায়ীভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

শেয়ার করুন