২৩ জানুয়ারি ২০১৯

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে নদীপথে বালি-পাথর পরিবহনে জামালগঞ্জ-তাহিরপুর ও ধর্মপাশার ঘেঁষে প্রবাহিত বৌলাই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে নৌ-যানজটে নদী পথে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে অটকা পড়েছে শত-শত নৌ-যান। এ কারণে স্থানয়ি বাসিন্ধাসহ নদী পথে যাতাযাতকারীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলীর ইউনিয়নরে বৌলাই নদীতে সৃষ্ট নৌ-জট বেশ কয়েক দিন ধরে প্রচেষ্টায় মুক্ত করে নৌ চলাচল শুরু হলেও গত রবিবার থেকে নদীর ভাটিতে আবারও তীব্র নৌজট শুরু হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক ইঞ্জিন চালিত নৌ-যান (ভলগেট) আটকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ বালি পাথর শ্রমিক সংগঠনের সেক্রেটারী মোহাম্মদ আলী তালুকদার। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ জট লেগে আছে বলে জানান তিনি।
বৌলাই নদীতে নৌ-জটের কারণে নৌ-যানের মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন নদী তীরের আশপাশের গ্রামের লোকজন। নদীর পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আশপাশের গ্রামের কৃষকসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
নৌযানের অনেক শ্রমিক জানিয়েছেন, নৌ-পথে তাহিরপুরের ফাজিলপুর থেকে বালি-পাথর সংগ্রহ করে সারা দেশে পরিবহনের জন্য সুনামগঞ্জে সুরমা, রক্তি, বৌলাই নদীসহ বেশ কয়েকটি নদী পাড়ি দিতে হয়।
বৌলাই নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে প্রতি বছরই নদীর বিভিন্ন স্থানে নৌজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে তিন-চার দিনের নদীপথ অতিক্রম করতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ একস্থানেই বসে থাকতে হয়। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি, নৌযানের মালিক-শ্রমিকরাও চরম লোকসানের শিকার হচ্ছেন দিন দিন। প্রতি বছরই ভরাটকৃত নদী খননের দাবি জানালেও উলেখযোগ্য স্থানগুলোতে খনন কাজ হচ্ছে না।
এলাকাবাসীরা জানান- নদীর তলদেশ ভরাট ও নৌযান শ্রমিকদের প্রতিযোগিতার কারণে বার বার নৌজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন অনেক চেষ্টা করলেও বেপরোয়া নৌযান শ্রমিকদের বিশৃংখলার কারণে সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদীতে শৃংখলা বজায় থাকলে এত নৌজট হত না।একাধিক নৌযানের সুকানীরা জানান, নদীতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে তাতে নৌ-যান চলাচলের সুযোগ থাকলেও আরো কননের প্রয়োজন।
জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউনিয়নের দুলর্ভপুর গ্রামের শাহানুর মিয়া বলেন, আমরার ভলগে (ইঞ্জিন চালিত নৗেকা) বেশ কয়েক দিন ধইরা আটকা পড়ছে। নদীতে ঘাটা লাগছে কয়েক শত নৌকা আটকা আছে। গাংগে ফানি কম, ভরাট অই গেছে, এর লাগি নাও চলে না। আমরাও কিচু দোষ আছে প্রতিযোগীতা না দিয়া লাইন বাইন্ধ্যা নাও চালাইলে অনন্ত এই সমস্যাটা কম অইতো। নদীতে আটকা থাইক্যা বহুত লস অইতাসে। বেহেলী নদী থেকে পৈন্ডুপ গ্রাম পর্যন্ত সৃষ্ট নৌজটে শত শত বালি-পাথর পরিবহনকারী নৌকা আটকা পড়েছে।
বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসীম কুমার তালুকদার বলেন, বেহেলির বৌলাই নদীতে নৌজটের কারণে শ্রমিকদের পাশাপাশি এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নদী তীরবর্তী বাসিন্ধাদের প্রযোজনযি কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতেও সমস্যা হচ্ছে। নৌ শ্রমিকদের মল-মূত্রে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। নৌজটে নদী পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে নদী খনন করে নৌজটমুক্ত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ববস্থা নিতে উর্দ্বতন কর্তৃ পক্ষের কাছে দাবী জানান। কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, বৌলাই নদীর বেশীর ভাগ জায়গা ভরাট হয়ে গেছে। প্রতি বছরই এই মওসুমে মাহমুদপুর, পৈন্ডুপ, হিজলা, গ্রামের সামনে হাঁটু-কোমড় পানি হয়ে যায়। এই জন্যই কয়েকটি গ্রামের সামনে নৌজটের সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই সমস্যা দেখা দিছে। প্রায় ৫ বছর যাবৎ যান যজটা খুব বেশী হয়। নদী ভরাটের কারণে শুধু নৌজটই হয় এমনা, চৈত্র বৈশাখ মাসে ফসল কাটার সময় পাহাড়ি ঢলের পানি নদীর তীর উপচে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ অনেক ঝুঁকিতে থাকে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, রক্তি নদী থেকে বৌলাই নদীর কালীবাড়ি পর্যন্ত ভরাটকৃত প্রায় ২৭ কিলোমিটার জায়গা খননের করার জন্য প্রকল্প তারিকা তৈরী করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই নদীর খননে কাশ দ্রুত শুরু করা হবে।