১৫ জানুয়ারি ২০১৯


শাবির শিক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

শেয়ার করুন

শাবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের ২০১১-১২ বর্ষের শিক্ষার্থী তাইফুর রহমান প্রতীকের আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়েল স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড মিনারেল সাইন্সের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি দুইজন হলেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম এবং সহকারী প্রক্টর মো: সামিউল ইসলাম।

মঙ্গলবার শাবি রেজিস্ট্রার ইসফাকুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘গঠিত তদন্ত কমিটিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

এদিকে আত্মহত্যায় নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। শাবি প্রক্টর জহীর উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের সকালকে বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীর বাবা,মামা, ভগ্নীপতি এর নিকট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।’

প্রতীকের মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বেশ কয়েকটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার বড় বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিষয়ের শিক্ষক শান্তা তাওহিদা। স্ট্যাটাসে প্রতীকের বিভাগের শিক্ষকদের দায়ী করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ভাইকে হত্যা করা হয়েছে এবং সেটার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তবে তার মৃত্যুর ঘটনায় মর্মাহত উল্লেখ করে এ বিষয়ে তারা দায়ী নয় বলে দাবি করেছেন শিক্ষকরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক জোবেদা কনক খান বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছিনা। যার কোনো আপনজন চলে যায় সবারই হিতাহিত বোধ কাজ করেনা, এঘটনা আমার সাথে হলে একই হতো। পুলিশ যেহেতু তার তদন্ত করছে সেক্ষেত্রে আসল বিষয় বেরিয়ে আসবে। কারণ যতদূর জানা গেছে সে শুধু ডিপার্টমেন্ট কেন্দ্রিক নয়, আরও অনেক মানসিক সমস্যা তার মধ্যে ছিল।’

এ ঘটনায় অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ। আমার কাছে আমার সন্তান যেমন সেও তেমন। তার সাথে ক্লাস পরীক্ষায় শিক্ষক হিসেবে কোনো বৈরি সম্পর্ক তৈরী হয়নি কখনো। তবুও কেনো আমার নামটি বলা হলো তা বোধগম্য নই।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। একই বিভাগের অধ্যাপক ফারুক মিয়াও ফোন ধরেননি।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামসুল হক প্রধান বলেন, ‘বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে আমার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বেশি দিনের নয়। তবে যে ছেলেটির আত্মহত্যার খবর আমরা পাই, সে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল হইতো। কারণ অনেক সময় সে বিভাগে এসেছিল বিভাগের শিক্ষকদের সুপারিশের জন্য। আমাদের অনেক শিক্ষক তার সুপারিশের সাহায্য করেছে।’

এ রিপোর্ট লেখার সময় নিহতের বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিষয়ের শিক্ষক শান্তা তাওহিদা ইস্তাম্বুল থেকে দেশের পথে রওয়ানা দেওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সিলেটের সকালকে বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক এবং আমরা মর্মহত। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে নগরের কাজলশাহ এলাকার একটি বাসা থেকে প্রতীকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে স্নাতকে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।

শেয়ার করুন